বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ির ১৮ টিসহ জেলার মোট ১৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তন্মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়িতে ১৮ টি। বাকীগুলো জেলার অপরাপর ৬ উপজেলায়। যার মধ্যে অত্যন্ত দুর্গম এলাকার ১১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য হেলিকপটার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রশাসন । বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র আরো জানা গেছে, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং ভোটার বিন্যাস বিবেচনা করে জেলার সাতটি উপজেলার ১৫৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রোয়াংছড়ির রনিন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; রুমার পাকনিয়ার পাড়া ও চিংলক পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; থানচির রদলিয়ান পাড়া, রেমাক্রী বাজার, বড় মদক, ছোট মদক বাজার, তিন্দু গ্রুপিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাইথোয়াইহ্লা কারবারী পাড়া, জিন্না পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আলীকদমের কমচঙ ইয়ুংছা মাওরুম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ১১টি কেন্দ্রে হেলিকপটারের মাধ্যমে সরঞ্জাম আনা-নেওয়া করা হবে।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়িতে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ উপজেলায কেন্দ্র রয়েছে ২৬ টি । তন্মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৮ টি । এখানে কক্ষ সংখ্যা-১০৪ টি। ভোটার সংখ্যা-৪৯৪৯৯।
এ সব কেন্দ্রে মালামাল পরিবহন হবে জীপ ও বাসে। হেলিকপ্টারে কোন মালামাল নিতে হবে না।
তিনি আরো জানান, এ উপজেলায় ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে যথাযথভাবে। কোন ধরণের সমস্য তিনি আপাতত দেখছেন না।
এদিকে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী হয়েছেন ৪ জন । তারা হলেন, ধানের শীষ প্রতীকে সাচিংপ্রু জেরি, শাপলা কলিতে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন, লাঙ্গল প্রতীকে আবু জাফর হাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ।
বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: কামরুল আলম জানান, বান্দরবানে গণভোট ও পেপারে ভোট দেবেন ৩ লাখ ১০ হাজার ৭২৯ জন। সরকারি কর্মচারী ও পোস্টাল ভোট দেবেন ৪ হাজার ৬৯৩ জন। নির্বাচনে ১৮৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১৮৭জন পোস্টাল প্রিজাইডিং, ৭২৯ জন সরকারি প্রিজাইডিং এবং ১ হাজার ৪৫৮ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো: মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী ইতিমধ্যে স্ব-স্ব কেন্দ্রে টহল জোরদার করেছে।
তারা আগামী বুধবার থেকে আরো নিবিড়ভাবে কেন্দ্র গুলো দেখবাল করবেন।যেন কোন কেন্দ্রে গন্ডগোল না হয। সুষ্টভাবে ভোট গ্রহন শেষ হয়।
এছাড়া আগামী বুধবার সকাল থেকে দুরবর্তী কেন্দ্র গুলোতে নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে যাবেন স্ব-স্ব কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।