বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪৩০ কিলোমিটার।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, বুধবার রাত ১০টা ৫১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে, যা ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অফিস থেকে প্রায় ৪৬২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তিনি আরও জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হলেও কক্সবাজার এবং এর কাছাকাছি উপকূলীয় অঞ্চলে এর প্রভাব ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএ এবং আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভলকানো ডিসকভারির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১২৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, ভূমিকম্পের গভীরতা বেশি হওয়ায় এর প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে; যে কারণে উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে হওয়া সত্ত্বেও কক্সবাজারসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে গভীর উৎসস্থলের কারণে স্থলভাগে ধ্বংসযজ্ঞ বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, কক্সবাজার শহর, মহেশখালী, টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। রাতের বেলা হঠাৎ কম্পন শুরু হওয়ায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ কম্পন অনুভবের কথা জানিয়ে পোস্ট দেন।
ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলটি সক্রিয় টেকটোনিক বলয়ের আওতাভুক্ত হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রায়ই এমন মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়ে থাকে। গভীর ভূমিকম্প হওয়ায় এবার কোনো বিপদ না ঘটলেও উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মাঝে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাগরিকদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।