সোমবার (২২ ডিসেম্বর) মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে নিউজিল্যান্ড ৩২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিধ্বস্ত করে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে। পঞ্চম দিনের দ্রুতগতির পিচে জ্যাকব ডাফি মাত্র ৪২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন, তাতে সফরকারীরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৮ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে মাত্র ১৫.৪ গড়ে ২৩ উইকেট শিকার করেছেন ডাফি। নিউজিল্যান্ডের ইনজুরি জর্জরিত পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে সিরিজজুড়ে ১৫৪ ওভার বোলিং করেছেন এই ৩১ বছর বয়সী পেসার। তাতে তিনবার নিয়েছেন ইনিংসে পাঁচ উইকেট। সিরিজসেরা নির্বাচিত হওয়ার পথে ডাফি ভেঙে দিয়েছেন কিউইদের ৪০ বছরের পুরনো এক রেকর্ড।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার ক্ষেত্রে ডাফি পেছনে ফেলেছেন দেশটির কিংবদন্তি স্যার রিচার্ড হ্যাডলিকে। চলতি বছর সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে ৮১ উইকেট শিকার করেছেন ৩১ বছর বয়সী ডাফি। ১৯৮৫ সালে ২৩ ম্যাচে ৭৯ উইকেট শিকার করেছিলেন হ্যাডলি। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে এতোদিন এটিই এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড হিসেবে টিকে ছিল।
ডাফি ৩৯ ইনিংসে মাত্র ১৭.১১ গড়ে এই মাইলফলকে পৌঁছান। অন্যদিকে, হ্যাডলি ২৯ ইনিংসে ১৮.৫১ গড়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটালেন এই ৩১ বছর বয়সী। ২০২৫ সালে তিনি মাত্র চারটি টেস্ট ম্যাচ খেলেই শিকার করেন ২৫টি উইকেট।
এর মধ্যে তিনটি টেস্টেই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়ে তিনি ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ পুরস্কারও জিতলেন।
টেস্টে ২৫ উইকেটের পাশাপাশি, ২০২৫ সালে খেলা ১১টি ওয়ানডেতে তিনি আউট করেন ২১ জনকে। ২১টি টি–টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৩৫টি উইকেট।
ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে ডাফি বলেন, 'দুপুরে এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ উইকেটের তালিকাটা দেখেছিলাম, সেখানে অসাধারণ সব নাম ছিল। এমন খেলোয়াড়দের পাশে কোনো তালিকায় নিজের নাম থাকা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।'
তবে, বিশ্বরেকর্ড থেকে অনেক দূরে আছেন ডাফি। এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ড শেন ওয়ার্নের। ২০০১ সালে ৪৫ ম্যাচে ১৩৬ উইকেট শিকার করেছিলেন এই লঙ্কান স্পিন জাদুকর। পরের স্থানেও তিনিই, ২০০৬ সালে ৪০ ম্যাচে শিকার করেছিলেন ১২৮ উইকেট। তালিকায় তৃতীয় নামটি অজি কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের। এই প্রয়াত লেগ স্পিনার ৩৯ ম্যাচে শিকার করেছিলেন ১২০ উইকেট। চলতি বছর আর কোনো ম্যাচ বাকি নেই নিউজিল্যান্ডের।