দীর্ঘ সতেরো বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর বাংলাদেশে ফিরেছেন দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তার দল বিএনপি ঢাকার পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ের (তিনশ ফিট সড়ক) কাছে গণসংবর্ধনার আয়োজন করে।
তারেক রহমানের গৃহপ্রবেশ
যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ঢাকায় নামার পর তারেক রহমানের বাড়ি পৌঁছাতে লেগে গেল প্রায় ৯ ঘণ্টা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানে ১৯৬ নম্বর বাড়িতে পৌঁছান তিনি। পাশের বাড়ি ‘ফিরোজা’ মা খালেদা জিয়ার আবাসস্থল। এদিন বেলা পৌনে ১২টায় শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইট। তাতে তারেক রহমান তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান।
সেখানে উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে বেলা সাড়ে ১২টায় নেতাকর্মীদের নিয়ে বাসে চেপে ৩০০ ফিটের পথে রওনা হন বিএনপি নেতা। খুব ধীরগতিতে চলা গাড়িবহর সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে লেগে যায় সোয়া ৩ ঘণ্টা। এসময় বাসের সামনে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান হাত নেড়ে সড়কের দুই পাশে অপেক্ষমান নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।
সমাবেশ মঞ্চে উঠে বিশেষ চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে বসেন তারেক রহমান। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে ১৫ মিনিটের মত বক্তব্য দেন তারেক।
এরপর বিকাল সোয়া ৪টায় তিনশ ফিট হয়ে পাশের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে। সেখানে মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে গুলশানের বাড়ির পথে রওনা হন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
এরপর এক ঘণ্টায় তারেক এবং পরিবারের সদস্যরা পৌঁছান গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে।
তারেকের বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার মাকে বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মাস কয়েক আগে এ বাড়ির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু।
মা খালেদা জিয়াকে দেখে হাসপাতাল থেকে বাসার পথে তারেক
এভারকেয়ার হাসপাতালে দেড় ঘণ্টা মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাটিয়ে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন তারেক রহমান। ওই বাড়িতেই তিনি পরিবার নিয়ে থাকবেন।
তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমান বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে এভারকেয়ারে এসেছিলেন। ৩০০ ফিট সড়কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ করে তারেকও কাছাকাছি সময়ে হাসপাতালে আসেন।
যে বাসে করে বিমানবন্দর থেকে এসেছিলেন, সেই বাসে করেই স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তিনি বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা ‘ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত: তারেক
দেশে এখনো বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র দেখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “বিভিন্ন আধিপত্যবাদ শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে। আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে; আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
“বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন, আপনারাই আগামী দিন দেশকে নেতৃত্ব দেবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন; এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদেরকে আজ গ্রহণ করতে হবে, যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত ভিত্তির উপরে—গণতান্ত্রিক ভিত্তি, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।”
যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে ঢাকার তিনশ ফিটে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, কয়েকদিন আগে এই বাংলাদেশের চব্বিশের আন্দোলনের এক সাহসী, প্রজন্মের এক সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে, ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, ওসমান হাদি চেয়েছিল—এদেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক।
“আজ চব্বিশের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ওসমান হাদিসহ, একাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে বিভিন্নভাবে গুম খুনের শিকার হয়েছেন, এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়—আসুন, আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব; যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।“
এভারকেয়ারে তারেক রহমান
ঢাকার তিনশ ফিট সড়কে জনসমুদ্রে সংবর্ধনা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পৌঁছেছেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে। গত ২৩ নভেম্বর থেকে সেখানে ভর্তি আছেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকার শাহজালাল বন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে উষ্ণ অভ্যর্থনা নিয়ে সোয়া ৩ ঘণ্টায় পৌঁছান ৩০০ ফিটের সমাবেশে। সেখানে ১৫ মিনিটের মতো বক্তৃতা করেই বিএনপি নেতা হাসপাতালে মাকে দেখতে গেছেন।
এভারকেয়ার থেকে তিনি যাবেন গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। এর পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িটি তার মা খালেদা জিয়ার আবাসস্থল।
তারেক রহমানকে দেখতে বিমানবন্দর থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত যেমন উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে, তেমনই তারেক রহমানের হাসপাতালযাত্রার পুরো পথেই নেতাকর্মীদের ভিড় সামাল দিতে গলদঘর্ম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
বগুড়ার গাবতলী থেকে আসা সত্তরোর্ধ্ব আব্দুল হাই সকাল থেকেই এভারকেয়ারের সামনে অপেক্ষা করছেন।
তিনি বলেন, “আমরা জানি উনারা সম্ভ্রান্ত পরিবারের। তাদের সুনাম অনেক। ৩০০ ফিটে অনেক ভিড়, তাই নেতাকে দেখতে এখানে অপেক্ষা করছি।”
বিশেষ চেয়ার সরিয়ে সাধারণে তারেক রহমান
দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন পেরিয়ে দেশে ফিরেই তারেক রহমান যে মঞ্চে বক্তৃতা করেছেন, সেই মঞ্চে উঠে বিশেষ চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে বসে পড়েন বিএনপি নেতা।
এদিন বেলা পৌনে ১২টায় শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১২টা থেকে সোয়া ৩ ঘণ্টায় তিনি বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটের সমাবেশস্থলে পৌঁছান তিনি। সেখানে বক্তৃতা করে এভারকেয়ার হাসপাতালে মাকে দেখতে গেছেন তারেক রহমান।
এভারকেয়ারের পথে তারেক রহমান
ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কে জনসমুদ্রে সংবর্ধনা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাচ্ছেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে। গত ২৩ নভেম্বর থেকে সেখানে ভর্তি আছেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকার শাহজালাল বন্দেরে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে উষ্ণ অভ্যর্থনা নিয়ে সোয়া ৩ ঘণ্টায় পৌঁছান ৩০০ ফিটের সমাবেশে। সেখানে পনের মিনিটের মতো বক্তৃতা করেই বিএনপি নেতা হাসপাতালে মাকে দেখতে যাচ্ছেন।
এভারকেয়ার থেকে তিনি যাবেন গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। এর পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িটি তার মা খালেদা জিয়ার আবাসস্থল।
মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে চায়: তারেক
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা চাইলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “আমরা চাই, সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব আমরা, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন; অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।
“যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু—যেই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।”
যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে ঢাকার তিনশ ফিটে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ চায়, তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।
“প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে; এই দেশে একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে।”
আই হ্যাভ এ প্ল্যান: তারেক রহমান
প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে পূর্বাচলে লাখো মানুষের সমাবেশ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান স্মরণ করলেন মার্টিন লুথার কিংয়ের অমর বাণী; সেই সুরে সুর মিলিয়ে বললেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’।
দেশবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিং—নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো আপনারা? মার্টিন লুথার কিং, তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে— ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম‘।
“আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই—আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফর দি পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।”
তিনি বলেন, “আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য; যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়—প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন; প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে।
“আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আ হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।“
বিমানবন্দর থেকে সোয়া ৩ ঘণ্টায় সমাবেশস্থলে তারেক
দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেই ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। সেখানে দলের তরফে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে; নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বিএনপি নেতা।
বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টায় তারেক রহমান ও তার পরিবারকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর বেলা সাড়ে ১২টায় নেতাকর্মীদের নিয়ে বাসে চড়ে তিনি ৩০০ ফিটের পথে রওনা হন। খুব ধীরে চলা গাড়িবহরটি বিকাল পৌনে ৪টায় সমাবেশস্থলে পৌঁছায়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সেরে তারেক রহমান যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। গত ২৩ নভেম্বর থেকে সেখানে ভর্তি আছেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
এভারকেয়ার থেকে তিনি যাবেন গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। এর পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িটিতে থাকেন তার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বাড়ি পৌঁছেছেন জুবাইদা-জাইমা
ঢাকায় পৌঁছার পর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে পৌঁছেছেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
দুপুর আড়াইটায় বিএনপির ফেইসবুক পেইজে জানানো হয়, তাদের বহনকারী গাড়ি বাসায় পৌঁছেছে। ভিডিতে জুবাইদা ও জাইমার পাশাপাশি তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকেও দেখা গেছে।
১৯৬ নম্বর বাড়ির পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবাসস্থল।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরে তার সহধর্মিনী খালেদা জিয়াকে বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মাস কয়েক আগে এ বাড়ির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু।
তারেকের ছোট ভাই, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান দুদিন আগেই ঢাকায় আসেন।
বদলে যাওয়া দেশ, নতুন রাজনীতি
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান যখন লন্ডনে গেলেন, দেশের ক্ষমতায় তখন একটি সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তখন মানুষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মানুষ গণতন্ত্রে ফেরার অপেক্ষায় ছিল।
প্রায় ১৮ বছর পর তিনি দেশে ফিরলেন। এখন দেশের ক্ষমতায় আরেকটি অনির্বাচিত সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মানুষ এখনো ভোটের জন্য দিন গুনছে। রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে।
এত মিল, কিন্তু তারেক রহমান পা রাখছেন অন্য এক বাংলাদেশে।
আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরে রাজনীতি, অর্থনীতি আর অবকাঠামোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। আরো বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান।
সেই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার উৎখাত হয়েছে। বিএনপির সামনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
প্রশ্ন হল, তারেক রহমান তার এই ফেরাকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারবেন? বিএনপিকে তিনি ভবিষ্যতে কোন পথে নিয়ে যাবেন?
‘সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা’
দীর্ঘ বিমান যাত্রার পর বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান যাচ্ছেন ৩০০ ফিটের সংবর্ধনা স্থলের দিকে। বিএনপির পতাকার রঙে সাজানো বাসে চড়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গী করে চলেছেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তার মাতৃভূমিতে ফেরার দিনে নেতাকর্মীদের ভিড়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল হয়ে ৩০০ ফিটের সড়ক।
সমাবেশ স্থলের কাছেও কোনো ঠাঁই নেই। শীত উপেক্ষা করে রাত আর ভোর থেকেই তা ভরে উঠেছে নেতাকর্মীদের ভিড়ে। বাকিরা অবস্থান নিয়েছে ৩০০ ফিটের সড়কের দুই ধারে।
বিমানবন্দরের বাইরে থেকে সড়কের দুই ধারে মানুষের দীর্ঘ সারি। সাড়ে ১২টার কিছু পরে ভিআইপি গেট দিয়ে বের হয়ে ধীর গতিতে এগোচ্ছে তার গাড়ি বহর। বাসের সামনের দিকে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তিনি। গাড়ি এগোচ্ছে আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে দুই পাশের এলাকা।
মানুষের এমন উচ্ছ্বাসে উচ্ছ্বসিত হয়ে তারেক রহমান তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মিনিট ২০ আগে ফেইসবুক ছোট্ট একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা’।
এসেছে জেবুও
বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরার যাত্রায় সঙ্গী হয়েছে পোষা বিড়াল জেবুও।
বিপুল সংবর্ধনায় তারেকের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যাত্রার পাশাপাশি জেবুর দেশে ফেরার খবর দিয়েছে বিএনপি।
মেয়ে জাইমা রহমানের পোষা বিড়াল জেবু যে প্রবাস জীবনে সময় কাটানোর অংশ ছিল, তা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন তারেক।
চলতি বছরের এপ্রিলে জেবুর সঙ্গে নিজের তোলা তিনটি ছবি ফেইসবুকে প্রকাশ করেন এই বিএনপি নেতা। ছবিতে দেখা যায়, মুঠোফোনে জেবুকে কী যেন দেখাচ্ছিলেন তিনি, আর জেবুও নিবিষ্টমনে দেখছিল।
অক্টোবরে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন আসে, জেবুকে নিয়েও। মেয়ের পোষা বিড়াল কীভাবে পরিবারের আদুরে হয়ে উঠল, সে কথা সেখানে বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “এখানে একটু ক্লিয়ার করে নেই, বিড়ালটি আমার মেয়ের বিড়াল। ও এখন অবশ্য সবারই হয়ে গিয়েছে। আমরা সবাই ওকে আদর করি।”
তারেকের ঠিকানা গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ি
দেড় যুগ বাদে দেশে ফেরা তারেক রহমান দিনের কর্মসূচি শেষে উঠবেন গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে।
বেলা সাড়ে ১২টার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে বাসে চড়ে তিনি ৩০০ ফিটের পথে রওনা হয়েছেন। সেখানে দলের তরফে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সেরে তারেক রহমান যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। গত ২৩ নভেম্বর থেকে সেখানে ভর্তি আছেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
এভারকেয়ার থেকে তিনি যাবেন গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। এর পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িটিতে থাকেন তার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
১৯৬ নম্বর বাড়িটি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরে তার সহধর্মিনী খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভা।
মাস কয়েক আগে এ বাড়ির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু।