সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১২ টার দিকে নুনিয়ার ছড়া ও জেল গেইট এলাকায় জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এই জরিমানা করা হয়। অভিযানে জেল গেইট এলাকার ওসানিক ট্রেডিং'কে ৩০ হাজার টাকা এবং নুনিয়ার ছড়া আবু স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার খুরুশকুল রাস্তার মাথায় মাম্মী এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার এবং বাংলাবাজার এলাকার কক্স ট্রেড লিংক'কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় 'এলপিজির দামে লাগামহীন নৈরাজ্য' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইদিন জেলা ভোক্তা অধিকার ও জেলা প্রশাসনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে বেলা ১২ টার দিকে অভিযানে নামে জেলা ভোক্তা অধিকার কার্যালয়।
হাসান আল মারুফ বলেন, এলপিজি আমদানির অজুহাতে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করায় গত দুদিনে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শহরের অনেক দোকান বন্ধ এবং দোকান খোলা থাকলেও গ্যাস নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কিন্তু, টাকা বেশি দিলে গ্যাস মিলছে। এছাড়া অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্রেও গরমিল। সরকার নির্ধারিত ১২৫৩ টাকার ১২ কেজি ওজনের এলপিজি বিক্রি করছেন ১৯০০ থেকে ২০০০টাকা।
তিনি বলেন, ভোক্তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার মাম্মী এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার, কক্স ট্রেড লিংক'কে ৫ এবং রবিবার ওসানিক ট্রেডিং'কে ৩০ হাজার, আবু স্টোরকে ৫ হাজারসহ চার প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার জরিমানা করা হয়েছে।
গৃহস্থালিতে রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। গত এক সপ্তাহে থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এলপিজির দাম খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এলপিজির সরবরাহ না থাকায় ক্রেতারা চাইলেও দিতে পারছেন না। তাঁদের বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই তাঁরাও বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।
জেলা এলপিজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আরিফ লিটন বলেন, 'দেশের সবচেয়ে বড় কোম্পানি বসুন্ধরা, এস আলমসহ আরও কয়েকটি কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। যার কারনে চাহিদার তুলনায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ৫০০ সিলিন্ডারের চাহিদা দিলে পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ সিলিন্ডার এবং দামও বাড়তি নিচ্ছে।
জেলা এলপিজি সমিতির সভাপতি সরওয়ার আলম বলেন, সরবরাহ বন্ধ হলেও ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়ার মত পরিস্থিতি হয়নি। কিছু ব্যবসায়ী অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছেন সাধারণ মানুষের উপর।