মিয়ানমারে আসন্ন সেনা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন নিয়ে দ্বিমুখী চাপে স্থানীয় জনগণ। একদিকে ভোট দিতে বাধ্য করতে জনগণের ওপর নৃশংসতা চালাচ্ছে জান্তা বাহিনী। অন্যদিকে, ভোট দেয়া থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত রাখতে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে জান্তাবিরোধী সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলো। এমনটাই জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার।
আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে মিয়ানমারে মাসব্যাপী সেনানিয়ন্ত্রিত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এ নির্বাচনের আগেই দেশজুড়ে সহিংসতা, ভয়ভীতি আর দমনপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। মিয়ানমারের জনগণকে দুর্বিষহ উভয় সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।
একদিকে জান্তাবাহিনী সহিংসতা ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে মানুষকে ভোট দিতে বাধ্য করছে। দেশটির নির্বাচন সুরক্ষা আইনের আওতায় মতপ্রকাশের জন্য বহু মানুষকে এরইমধ্যে আটক করা হয়েছে, কোথাও কোথাও দেয়া হয়েছে ৪০ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের ভরকার তুর্ক।
অন্যদিকে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীরাও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইয়াঙ্গুন অঞ্চলে প্রশাসনিক দফতরে বোমা হামলায় আহত হয়েছেন নির্বাচনকর্মীরা। জাতিসংঘ বলছে, এমন পরিবেশে অবাধ ও অর্থবহ ভোট সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত এই নির্বাচনকে সমর্থন দিচ্ছে প্রতিবেশী দেশ চীন। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘাত প্রশমনে চীনের মধ্যস্থতায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, যা জান্তার অবস্থান শক্ত করেছে। যদিও দেশের ভেতরে অনেকেই এই ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে।
এর মধ্যেই পিপলস ডিফেন্স ফোর্স-এর কাছ থেকে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী উত্তর মান্দালয়ের সিঙ্গু শহর পুনর্দখলের পর ইরাবতী নদীর দুই পাশে সাগাইং ও মান্দালয়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। মিয়ানমারের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় পালিয়ে যাওয়া বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।