কুতুবদিয়ায় ঘন কুয়াশায় ধস নেমেছে লবন উৎপাদনে। এক সপ্তাহ জুড়ে সূর্যের দেখা না মেলা আর কুয়াশায় উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় অপরিপক্ক লবন মাঠেই মিলিয়ে গেছে অন্তত অর্ধলক্ষ মন লবন। যার বর্তমান দরপতনেও মূল্য কোটি টাকার বেশি ।
চলতি লবন মওসুমে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ৬ হাজার একর জমিতে লবন চাষ করছেন সাড়ে ৪ হাজার লবন চাষি। গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে চাষিরা লবনের দাম না পাওয়ায় এবার ৫০০- একর জমি পতিত পড়ে আছে।
দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে লবন চাষি আব্দু শুক্কুর জানান, গত মওসুমে শ্রমিক খরচ পুরোটাই ঘাটতি ছিল। চার কানি জমিতে একলক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই এবার জমির লাগিয়ত মূল্য কম হলেও অনেক চাষি জমি পতিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন। চলতি বছর লবন উৎপাদনের ভরা মওসুমে রেকর্ড পরিমাণ কুয়াশা নামায় এক সপ্তাহ ধরে মাঠে কোন লবন জমেনি। এঘাটতি পুরণ হবার নয় বলেও তিনি জানান।
গতকাল বুধবার পূর্ব আলী ফকির ডেইল গ্রামের লবন মাঠে গেলে চাষি ছৈয়দ আহমদ, শাহজাহান ছোটন বলেন, ১০ দিন ধরে কুয়াশায় লবন মাঠের উঠতি লবন মাঠেই মিলিয়ে গেছে। সাধারণত এবার শুরুতে প্রতি কানিতে ৫০০ মণ হিসেবে লবন উঠছিল। কুয়াশায় নেমে এসেছে ২১০ মণে। মাঠে ব্যবসায়িরা প্রতিমণ লবনের দাম দিচ্ছে ১৮০ টাকা।
গত বছর ৩ কাণি জমিতে লবন চাষ করে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দেড় লক্ষ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে বলেও জানান লবণ চাষি ছোটন। লবন উৎপাদনে খরচ বেশি হলেও সরকার নির্ধারিত লবনের দাম তারা পাচ্ছেন না। লবনের ন্যায্য দাম নির্ধারণকরাসহ বিদেশ থেকে ণবন আমদানি বন্ধ রাখাও জরুরি বলে মনে করেন চাষিরা।
উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের লবন ব্যবসায়ি মোহাম্মদ হোছাইন, লেমশীখালীর লবন ব্যবসায়ি আব্দু রহিম বলেন, এমনিতেই লবনের দাম কম। ঘন কুয়াশায় লবন উৎপাদন কমে গেছে অর্ধেক। চাষিরা মাঠ পর্যায়ে প্রতিমণে ১৭০ টাকা পাচ্ছে। ব্যবসায়িরা মাঠ থেকে লবন কিনে শ্রমিক,পরিবহণ খরচ,ঘাটসহ ৬০ টাকা নেয়া হয়। কম-বেশি সব মাঠেই একই ভাবে খরচ নেয়া হয় বলেও জানান তারা।