নানা বিতর্কের পর অবশেষে উচ্ছেদকৃত 'সুগন্ধা মোড় মার্কেটের' দখলমুক্ত সরকারি জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরাও দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর ) এই জায়গাটি ঘেরাও করে নিজেদের আয়ত্তে নিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সুগন্ধা পয়েন্টে সরকারি জমি (বাতিলকৃত প্লট) -এর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল "সুগন্ধা মোড় মার্কেট।" যেখানে একেক করে ৭৪টি স্থাপনা থেকে বাৎসরিক ভাড়া বাবদ আদায় করা হতো ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। এত কোটি টাকার লেনদেন হলেও এক টাকারও রাজস্ব আদায় করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। এসব টাকার একটি অংশ ঠিকই নিয়ে নিতো সমিতি নামে একটি সিন্ডিকেট।
জেলা প্রশাসন ও কউক জানিয়েছেন, ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল সরকার টেকনাফ থেকে নাজিরার টেক পর্যন্ত এলাকাকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ে কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের ৪৯টি প্লট একসাথে বাতিল করে। এরপর ২০১৮ সালে আরেকটি রায়ে হোটেল -মোটেল জোন এসব জমি ১ নং খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশেষ করে, ২০০০৩ দাগের ৩৯ দশমিক ৭৮ একর জমি সম্পূর্ণভাবে খাস হয়ে যায়।
সময় যত দীর্ঘ হচ্ছে সরকারের এসব জমিও বেদখল হয়ে যাচ্ছে। দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গত ১০ বছরে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখা। উচ্ছেদের পর এসব জমি আবারও দখল হয়ে যায়।
স্থানীয়রা বলছেন, উচ্ছেদের পর সরকারি জমিতে শুধু সাইনবোর্ড নয়, টেকসই কনক্রিটের ওয়াল দিয়ে ঘেরাও দিতে হবে। সেই জমিতে গাছ লাগাতে হবে। নতুবা, টেন্ডারের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদি লিজ দিয়ে বিশাল অংকের রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। না হয়, ওই দখলমুক্ত জমি ফের দখল ও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি সপ্তাহে হোটেল-মোটেল জোনে চারটি বড়সড় অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। গত শনিবার (০১ অক্টোবর) কলাতলীতে সরকারি জমি উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হয়েছিল। যেখানে ১৯টি স্থাপনা আধা পাকা করে তৈরি করা হয়। ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য শতকোটি টাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর এক দিন পর কলাতলীতে সড়ক ও জনপদের (সওজ) ৬ একর জায়গা উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হয়। পরের দিন সুগন্ধায় হকারদের দখলে থাকা সরকারি জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ২ একরের মত জমি। পরেরদিন সুগন্ধা মোড় মার্কেটের দখলে থাকা সরকারি জমি উদ্ধার করে জেলা প্রশাসন। এর একদিন পর ওই জমি দখল করতে যায় একটি গ্রুপ। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা ব্যবসায়ীদের সাথে তুমুল তর্ক হয়। পরবর্তীতে দুপক্ষের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোহাগ (৩২) নামের এক ব্যবসায়ী আহত হন। তিনি পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এ ঘটনার পর থেকে সুগন্ধায় থমথমে পরিস্থিতি দেখা যায়। এ নিয়ে দৈনিক কক্সবাজার দু'টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এমন প্রেক্ষাপটে দখলমুক্ত জায়গা ঘেরা দিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।
স্থানীয়দের দাবি, দখলবাজদের কবলে থাকা সরকারি জমি দখলমুক্ত করে টেকসই ওয়াল (পাকা দেয়াল) দিতে হবে। না হয় এসব জমি ফের দখল হয়ে যায়। এসব জমি যদি টেন্ডারের মাধ্যমে লিজ বা স্থাপনা তৈরি করে বাৎসরিক ভাড়া দেওয়া হয় তাহলে, কয়েকশ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করা সম্ভব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে খবর নিয়ে জানতে পারলাম, সুগন্ধার সরকারি জমি নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিপূর্বে একটি ঘটনাও ঘটেছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে, কিছু মানুষ ওই জমি দখল করতে বিভিন্ন কৌশল চালাচ্ছে। এসব ঘটনা এড়াতে ও সরকারি জমি সরকারের আয়ত্তে নিতে বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ইতিমধ্যে দখলমুক্ত হওয়া সকল সরকারি জমিতে সাইনবোর্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুগন্ধায় দখলমুক্ত হওয়া জমিতে লোহার শেকল ও বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল জায়গা ঘেরাও করা হবে এবং ওই জায়গা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এখনো যাঁরা সরকারি জমি দখল করে আছেন, তারা যেন নিজ উদ্যেগে জায়গা থেকে সরে যায়। তাঁদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নিজেরা সরে না গেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।