সামরিক শাসিত মিয়ানমারে চলমান তিন ধাপের সাধারণ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান। একইসাথে এই নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ সদস্যের এই জোট।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
২০২১ সালে বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমার চরম সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনকে জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এটি সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়ার একটি অপকৌশল মাত্র। যদিও জান্তা সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান জানান, গত বছর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমার তাদের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে আসিয়ান সর্বসম্মতিক্রমে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি আসিয়ান কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। আর এর স্বাভাবিক অর্থ হলো আমরা এই নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা বা স্বীকৃতি দেব না। তবে জোটগতভাবে এই অবস্থান নিলেও কিছু সদস্য রাষ্ট্র ব্যক্তিগত উদ্যোগে পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। জান্তা সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ প্রথম ধাপে নিম্নকক্ষের ৮৮ শতাংশ আসনে জয়লাভ করেছে বলে জানা গেছে। চলতি মাসেই নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
একই অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চলমান অস্থিরতা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়েছেন। তিনি জানান, দক্ষিণ চীন সাগরে বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে চীনের সাথে একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি চূড়ান্ত করার শেষ পর্যায়ে রয়েছে আসিয়ান।
চীন দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে, যা মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, তাইওয়ান এবং ভিয়েতনামের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাথে সাংঘর্ষিক।