রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল ৪ টার দিকে তিনি উখিয়া উপজেলার বালুখালী এলাকার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত চিকিৎসাসেবা সহ মানবিক নানা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
এর আগে, দুপুরে ঢাকা থেকে বিশেষ বিমানযোগে কক্সবাজারে পৌঁছান। এরপর বিকেল ৪টার দিকে তিনি উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানে তুরস্কের সহায়তায় স্থাপিত অস্থায়ী হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা নিতে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের জীবনযাত্রার পাশাপাশি নানা সমস্যার বিষয়ে অবগত হন।
পরে তিনি ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানেও তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত চিকিৎসা ও মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ক্যাম্পগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা ও উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদান সন্ধ্যায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
এসময় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেন।
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে তুরস্কই একমাত্র দেশ, যারা নিজস্ব সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সম্পৃক্ততার নজির নেই।
তিনি জানান, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে অর্ধদিবসের জন্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং তুরস্কের রাষ্ট্রদূত।
সফরকালে প্রতিনিধিদলটি তুরস্ক পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তারা ক্যাম্প-৯ এ অবস্থিত তুর্কি হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীদের খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের কার্যক্রমে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরে ক্যাম্প-১৬ পরিদর্শনকালে তারা রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া রোহিঙ্গা যুবক-যুবতীদের জন্য পরিচালিত কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সফরের অংশ হিসেবে তারা বৃক্ষরোপণও করেন।
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক তহবিল সংকটের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অর্থায়নে চাপ সৃষ্টি হলেও তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে এবং এ মানবিক সংকট মোকাবিলায় তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে।