শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদকৃত সরকারি জমি ফের দখলের অভিযোগ উঠেছে। দখল বাণিজ্য নিয়ে পর্যটন জোনে দুই পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে সুগন্ধা পয়েন্টের সরকারি জমি দখল নিয়ে দু'পক্ষের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোহাগ (৩২) নামের এক ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
জানা যায়, গত রবিবার দীর্ঘদিন দখলে থাকা সুগন্ধা মোড় মার্কেটের ৭৪টিরও অধিক দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছিল জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। উচ্ছেদের সময় দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট-এর সাথে ব্যবসায়ীদের তুমুল তর্কাতর্কি হয়। সব প্রশ্নকে উপেক্ষা করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত অটল থাকে প্রশাসন। এর একদিন পর রবিবার রাতে ওই স্থানে দোকান বসাতে যায় একটি পক্ষ। এসময় পূর্বের দখলে থাকা ব্যবসায়ীদের সাথে তাঁদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই স্থানে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার (০১ অক্টোবর) প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সকল অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। উচ্ছেদকৃত জমিতে সাথে সাথে সাইনবোর্ড তুলে দেয় জেলা প্রশাসন। সেখানে লেখা আছে, এই সম্পত্তি সরকারের। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও দখল নিষেধ। এর একদিন পর রাতে রাজনৈতিক দলীয় পরিচয়ে একটি গ্রুপ ওই জমি দখল করতে আসে। এসময় উচ্ছেদকৃত ব্যবসায়ীদের সাথে তাঁদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সুগন্ধা পয়েন্টে ভাসমান দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা, রবিবার আনুমানিক রাত ১২টার পরে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল উচ্ছেদকৃত জায়গায় দোকান বসাতে আসেন। এসময় উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।
উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শাহনেওয়াজ, জাফর আলম, এনাম, মোজাম্মেল, নুরুল হাকিমসহ আরও বেশ কয়েকজন গাছ-বাঁশ নিয়ে জায়গা দখল করতে আসে। জানতে চাইলে, উল্টো তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এসময় দুপক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘ এক যুগ আগে প্লাস্টিকের চট নিয়ে বসে ব্যবসা করেছি। পরে স্থাপনা করে ব্যবসা করে আসছি এবং প্রশাসনও সব জানে। তিনি বলেন, প্রশাসন থেকে মাইকিং করার পর আমরা জিনিসপত্র গুছিয়ে ফেলেছি। কিন্তু, আমাদের উচ্ছেদ করে আরেক জনকে বসার সুযোগ করে দেবে, এটা হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে জায়গা খালি থাকবে।
সুগন্ধা মোড় মার্কেটের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, কক্সবাজারে উচ্ছেদ অভিযানের নামে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে প্রভাবশালীদের দখল করার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, সরকারি উচ্ছেদকৃত জমিতে কেউ আবার দখল করবে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। যাঁরা সরকারি জমি দখল করে আছে, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।