বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এইবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ। এটি আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি বড় পরীক্ষা-মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ।
তিনি বলেন, আগামী যে সংসদ আপনারা নির্বাচিত করবেন, সেই সংসদেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধন হবে—মানুষের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র সুসংহত করা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
তিনি মঙ্গলবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার উত্তর কাকারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিএনপি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে-ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার। এখানে উপস্থিত আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বী মা-বোন, ভাই-বোনদের মুখের হাসিই প্রমাণ করে-তারা বিএনপির হাতেই নিরাপদ। ইতিহাস সাক্ষী, বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল, তখন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়নি।
“বিএনপি সরকারে থাকুক বা বিরোধীদলে-ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি-সব ধর্মের উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও ভাতা প্রদান করা হবে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে-এই নিশ্চয়তা একমাত্র বিএনপিই দিতে পারে। তাই জনগণ বিএনপিকে তাদের বিশ্বস্ত বন্ধু মনে করে। বাংলাদেশের গণমানুষের দল হলো বিএনপি। বিএনপির অপর নাম গণতন্ত্র। গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও প্রগতির অপর নাম বিএনপি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সবাই এই দেশের রাজা, এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। জনগণই হলো এই দেশের সর্বভৌম শক্তি। সেই জনগণের হারিয়ে যাওয়া ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষে একটি ভোট দিন।
“কারণ এই দেশের গণতন্ত্র, এই দেশের জনগণ এবং এই দেশের স্বাধীনতা একমাত্র জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির হাতেই নিরাপদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক, স্বাধীনতার পতাকা আজও বিএনপির হাতেই সুরক্ষিত।”
তিনি বলেন, আমরা এই দেশের গণমানুষের দল। এই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আমরা সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, মানুষের ভোটাধিকার আদায়ের সংগ্রামে আমাদের নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছেন। আপনারা দেখেছেন-বাংলাদেশের মানুষ তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে শেষ বিদায় জানিয়েছে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমরা পরীক্ষিত। আমরা আপনাদের বন্ধু।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি যতবার এই এলাকায় এমপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, আপনারা আমাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করেছেন। এমনকি আমার অনুপস্থিতিতে, যখন আমি কারাগারে বন্দি ছিলাম, তখন আপনারা আমার স্ত্রীর ওপর আরও বেশি আস্থা রেখে তাকে সংসদে পাঠিয়েছেন। সুতরাং আমি জানি-আপনারা আমাকে কতটা ভালোবাসেন এবং কতটা বিশ্বাস করেন।”
এসময় কাকারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, জেলা ওলামাদলের সভাপতি আলী হাছান চৌধুরী, জমিয়াতে উলামায়ে ইসলামের জেলা আহবায়ক মাওলানা শামসুদ্দিন আলতাফ, সদস্য সচিব মৌলানা মুফতী আজিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক ছাইফুল ইসলাম ছাবুসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।