নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘন্টার সাগরের উত্তাল পথ পাড়ি দিয়ে দুপুর পৌণে ২ টার দিকে সেন্টমার্টিন পৌঁছায় এমভি বার আউলিয়া নামের এই জাহাজ।
কিন্তু যাত্রার প্রথমদিনই কতজন পর্যটক বা যাত্রী জাহাজটি যোগে সেন্টমার্টিন গেছেন এই সংখ্যা তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ, সরকারি ৩ টি প্রতিষ্ঠান এই সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ৮৫০ জন ধারণক্ষমতার এই জাহাজ যোগে হাজারের অধিক পর্যটক গেছেন। তবে সরকারি সংস্থার নজরদারী, দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে এমভি বার আউলিয়া নামের একটি জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা দেন।
এসময় সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যাঁরা টিকিট কেটেছেন, তাঁরাই সবাই গেছেন।
আর ট্যুরিজসম বোর্ডর গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন জানান, প্রথম দিন ৮৮৬ জন যাত্রী টিকেট কেটে ভ্রমণ পাস নিয়েছেন।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিষ্ট্রেট মো: মাহমুদুর রহমান সায়েম জানিয়েছেন, প্রথমদিন সেন্টমার্টিন গেছেন ৮৩৭ জন।
অপরদিকে বিআইডব্লিউটিএ এর ট্রাফিক পরিদর্শক তোফাজ্জেল হোসেন জানান, প্রথম দিন সেন্টমার্টিন গেছেন ৮৩০ জন।
এছাড়া প্রথম পেশাগত সংবাদ সংগ্রহ জাহাজটি যোগে বিনা টিকেটে অন্তত ২০ জন গণমাধ্যমকর্মী, জাহাজটিতে দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পরিদর্শক সহ অর্ধ শত সরকারি কর্মকর্তা সেন্টমার্টিন গেছেন বলে স্বীকার করেছেন এমভি বার আউলিয়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দ্যেশে রওনা দেয় এমভি বার আউলিয়া। দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘন্টার সাগরের উত্তাল পথ পাড়ি দিয়ে দুপুর পৌণে ২ টার দিকে সেন্টমার্টিন পৌঁছায়। আর আগত পর্যটকদের বরণ করতে আগে থেকেই জেটি ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন দ্বীপবাসী সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা। পর্যটকরা একে একে জাহাজ থেকে জেটিতে নামতেই ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করেন তারা।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, সরকার আরও দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সেগুলোও চালু করা হবে। এ ছাড়া আরও ছয়টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেন্টমার্টিনের পর্যটন নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক।
কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলের সার্বিক বিষয় নজরদারি করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। পর্যায়ক্রমে জাহাজ চলাচল বাড়লে প্রতিটি বিষয় আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। আশা করছি, এই যাত্রার মধ্য দিয়ে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুরোধে আমরা জাহাজের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছি। এসব সরঞ্জাম বিআইডব্লিউটিএ পরীক্ষা করে থাকে। পরিদর্শনে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। জাহাজ তিনটির মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে সাতটায় কক্সবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি বার আউলিয়া বিকেল আড়াইটায় সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল সোয়া সাতটায় যাত্রা করে বেলা সোয়া দুইটায় ফিরবে। আর এমভি টেকনাফ সকাল সোয়া আটটায় যাত্রা করে বিকেল সাড়ে তিনটায় ফিরবে।