টেকনাফ থেকে শামলাপুর পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার সড়কের বহু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ৮০হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এসব ভাঙন দেখা দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ পৌরসভা থেকে শামলাপুর এ ৩১কিলোমিটার সড়ক। এ সড়কের
লেঙ্গুরবিল, হাবিরছড়া, হাতিয়ারঘোনা, মিঠাপানির ছড়া, রাজারছড়া, কচ্ছপিয়া, শীলখালী, মাথাভাঙ্গা, বড়ডেইল, জাহাজপুরা, চৌকিদারপাড়া, বাইন্ন্যাপাড়া, আছারবনিয়া, হলবনিয়া, মনখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুপাশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় পিচ উঠে গেছে। টেকনাফ পৌরসভার জাফর চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে সড়ক ও একটি কালভার্টের ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিজিবি, এপিবিএন, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ব্যবহারকারী হেলাল উদ্দিন ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সাঈদী বলেন, এ সড়কটি এভাবে পড়ে থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরসভা ও স্থানীয় অধিবাসীদের। পৌরসভার 'জাফর চেয়ারম্যানের বাড়ির' সামনেও কালভার্টের অবস্থা খুবই নাজুক। সড়কটি দেখার কি কেউ নেই?
অটোরিকশা চালক খাইরুল আমিন বলেন, পর্যটকদের কাছে টেকনাফ- কক্সবাজার সড়কের চেয়ে এ সড়ক আকর্ষণীয়। সড়কের একপাশে সমুদ্র, আরেক পাশে পাহাড় হওয়ায় প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য পর্যটকেরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী পরিবহনে দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের বিকল্প হিসেবে মেরিন ড্রাইভ নামে টেকনাফ- শামলাপুর ভায়া কক্সবাজার সড়ক ২০০৭ সালে নির্মিত হয়। এরপর
২০২৩ ও ২৪ সালে সড়কটি তিনটি প্যাকেজে প্রায় ৩২ কোটি টাকা খরচ করে সড়কের নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদারী আহ্বান করা হয়েছিল। তিনটি প্যাকেজের ঠিকাদাররা অধিকাংশ টাকা শেষ করে কিছু টাকা উত্তোলন করে এবং সরকার পরিবর্তনের ফলে অসমাপ্ত কাজ ফেলে চলে যায়। দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা হিমছড়ি ঝরনা, ইনানী ও শীলখালী পাথরের স্তূপ, জাহাজপুরা গর্জন বাগান, হোয়াইক্যং কুদুমগুহা ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপ দেখতে যায় এই পথে।
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান ও বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, সড়কটি দিয়ে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষসহ পর্যটকেরা চলাচল করে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তাঁরা বলেন, পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে সড়কের সংস্কার করা না হলে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। সড়কের দুরবস্থার কারণে এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আলাউদ্দিন খাঁন বলেন, বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পুরো সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সড়কটি ব্যবহার করছে পৌরসভার ১০ হাজারের বেশি জনগণ। সড়কটি নিয়ে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে। এটি মেরামত করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।