কক্সবাজারের বাঁকখালী, নুনিয়াছড়া এবং মহেশখালী ঘাটে প্রবেশে বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত টোল আদায় নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। যেখানে মহেশখালী থেকে কক্সবাজার নদী পারাপারে কাঠের বোট ভাড়া জনপ্রতি আসা-যাওয়ায় মাত্র ৬০ টাকা, সেখানে বিআইডব্লিউটিএ’র জেটিতে প্রবেশ করতেই দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা। এর প্রতিবাদে গতকাল (৮ আগস্ট) সকাল দশটায় মহেশখালী জেটি প্রাঙ্গনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটিকে এক দেশে দুই নীতি ও বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করছেন পর্যটকরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, কক্সবাজারের ঘাটগুলোতে নামার সময় ৫০ টাকা এবং মহেশখালী প্রান্ত থেকে ফেরার সময় আবার ৫০ টাকা; অর্থাৎ একজন দেশীয় পর্যটককে আসা-যাওয়ায় শুধু টোল বাবদই গুণতে হচ্ছে ১০০ টাকা। বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে এই ফি ঘাটে ঢুকতেই ৩০০ টাকা। অন্যদিকে ‘স্থানীয়’ যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে আসা যাওয়ায় ৫টাকা করে ১০ টাকা। একই দেশের নাগরিকদের মধ্যে টোলের বৈষম্যের পাশাপাশি যাত্রী সেবাহীন হওয়ায়, পর্যটকদের মাঝে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
দেশীয় পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চড়া টোল আদায় করা সত্ত্বেও ঘাটগুলোতে ন্যূনতম যাত্রীসেবার বালাই নেই। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য বিশ্রামাগারের কোনো ব্যবস্থা নেই। সুপেয় পানি, মানসম্মত শৌচাগার কিংবা বসার মতো সুযোগ-সুবিধাও নেই এসব ঘাটে। বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আসা-যাওয়া ৬০০ টাকা প্রবেশ ফি নেওয়া হলেও তাদের জন্য ন্যূনতম আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নাই।
পর্যটক ও যাত্রীদের অভিযোগ, একই দেশের নাগরিক হয়েও কেবল অন্য জেলা থেকে আসার কারণে ১০ গুণ বেশি ফি দেওয়া স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। কে স্থানীয় আর কে পর্যটক–তা যাচাইয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় ঘাটের ইজারাদারের লোকজনের হাতে প্রতিনিয়ত বাগ্বিতণ্ডা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদেরকে। কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন যাতায়াত করা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকেও অনেক সময় ‘পর্যটক’ আখ্যা দিয়ে ৫০ টাকা ফি দিতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠেছে।
মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া কিংবা দৃষ্টি নন্দন আদিনাথ জেটিঘাট দেখতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ঘাটের এমন অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত ফি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এতে করে পর্যটননগরী কক্সবাজার ও মহেশখালীর পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ঘাটে যাতায়াতকারী কয়েকজন ক্ষুব্ধ পর্যটক বলেন, ‘সুযোগ-সুবিধার নামে ঘাটে কিছুই নেই। আসা-যাওয়ায় ১০০ টাকা টোল দিয়ে নোংরা ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু মেলে না।’
অনতিবিলম্বে ঘাটের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর থেকে এই বৈষম্যমূলক টোলপ্রথা বাতিল করার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিআইডব্লিউটিএ’র জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
বিআইডব্লিউটিএ এর কক্সবাজার জেলার দায়িত্বে কর্মকর্তা জানান, চলতি মাস থেকে বিআইডব্লিউটিএ এর ঘাট ব্যবহার করে মহেশখালীতে যাওয়া-আসায় দেশী পর্যটকদের থেকে ১০০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে ৬০০ টাকা টোল আদায়ের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বিআইডব্লিউটিএ’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন। শিগগিরই সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত টোলের হার পর্যালোচনা করে তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, তিনি ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়টিও অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, ঘাট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ’র। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা তাঁকে জানিয়েছেন, টোল নির্ধারণের সিদ্ধান্তটি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ এর কক্সবাজার জেলার দায়িত্বে থাকা পরিবহন (নৌ) পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন জানান, টোল বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রতিবাদ সভা হয়েছে- এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। মহেশখালীকে পর্যটকদের কাছে আনন্দময় করতে নৌ-পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম করা দরকার।