কক্সবাজারের কলাতলীতে এলপিজি গ্যাস পাম্পের আগুনে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিম নামে আহত ব্যক্তি মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যু বরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তারই বড় ভাই সলিম উল্লাহ।
আব্দুর রহিম কলাতলী এলাকার মৃত মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে। তিনি আগুনে ৫০ শতাংশ পুড়েছিলেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন জানিয়েছেন, আরও একজনসহ আগুনে এ পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সাকলে এ ঘটনায় প্রথম মারা যাওয়া আবু তাহেরের নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
রোববার দুপুর আড়াই টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে দ্বগ্ধ আবু তাহের ৩ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
আবু তাহের (৪২) কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়।
বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। আগুনে ৩০টির মতো গাড়ি, ৪ টি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধসহ আহত হন ১৫ জন। এর মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছিলেন, গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে যেখানে চিকিৎসাধীন ৬ জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, রহিম ৫০ শতাংশ, সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ, মেহেদি আর মোতাহের ২০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছে।
আগুনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম। কমিটি ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
রোববার রাতে আগুনের ঘটনার পাম্প মালিক নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরণ অধিদপ্তর। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস.এম সাখাওয়াত হোসেন বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগুনের ঘটনার পর পরিদর্শন করে যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে গ্যাস পাম্প করার জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সর্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইন্সেন নেন নি মালিক এন আলম। যা বিস্ফোরণ আইন অপরাধ।