ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলা যুদ্ধকে সমর্থন না দিয়ে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে লেখা পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি, লিখেছে বিবিসি।
কেন্ট বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না তিনি। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিও সৃষ্টি করেনি। ইসরায়েলের চাপেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে।
এনসিটিসি পরিচালক হিসেবে গত বছরের জুলাই মাসে তাকে বেছে নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বছর না ঘুরতেই সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, নিজের বিবেকবোধ থেকেই আর এ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চান না। ইরান যুদ্ধ আমেরিকার জনগণের প্রাণ ও সম্পদ কেড়ে নিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
কেন্ট লিখেছেন, “ইরান আমাদের জাতির জন্য কোনো আসন্ন হুমকি সৃষ্টি করেনি। এটি এখন স্পষ্ট যে, ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী আমেরিকান লবির চাপের কারণেই আমরা এই যুদ্ধ শুরু করেছি।”
একসময় ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচার ও পররাষ্ট্র নীতির সমর্থক ছিলেন কেন্ট।
সেই কথা তুলে ধরে ট্রাম্পকে লেখা পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, “আমি ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের প্রচারণায় আপনার ঘোষিত মূল্যবোধ ও পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন করি, যা আপনি আপনার প্রথম মেয়াদে কার্যকর করেছিলেন। ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত আপনি নিজেও বুঝেছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো একটি ফাঁদ, যা আমেরিকার দেশপ্রেমিকদের মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নেয় এবং আমাদের জাতির সম্পদ ও সমৃদ্ধি শেষ করে দেয়।”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একজন অভিজ্ঞ সেনা হিসেবে ১১ বার যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। একজন ‘গোল্ড স্টার’ স্বামী হিসেবে ইসরায়েলের তৈরি একটি যুদ্ধে নিজের প্রিয়তমা স্ত্রী শ্যাননকে হারিয়েছি।
“তাই আমি পরবর্তী প্রজন্মকে এমন একটি যুদ্ধে লড়াই করতে আর মরতে পাঠানোর সমর্থন দিতে পারি না, যা আমেরিকার জনগণের কোনো উপকারে আসে না। অথবা প্রাণের বিনিময়েও যাকে ন্যায়সঙ্গত বলা যায় না।”
রয়টার্স লিখেছে, কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘আসন্ন হুমকি থাকা আবশ্যক’।
এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে কোনো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউস। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরের কার্যালয় থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য মেলেনি।
অপরদিকে জো কেন্টের আকস্মিক পদত্যাগে বিস্মিত হয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। হঠাৎ এমন কাণ্ডে তারা বেশ ‘অপ্রস্তুত’ হয়ে পড়েছেন।
জো কেন্ট ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর’ তুলসী গ্যাবার্ডের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তুলসী গ্যাবার্ড নিজেকে জনসম্মুখ থেকে অনেকটা আড়ালে রেখেছেন।
রয়টার্স লিখেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি গ্যাবার্ড। চলতি মাসের শুরুতে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের লাশ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া তাকে জনসমক্ষেও দেখা যায়নি।