নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ, তবে সেই অনুরোধ রাখেনি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। উল্টো বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। তবে সম্প্রতি বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে আলোচনায় বসে আইসিসি। সেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয়। আর সেই সব শর্ত মেনেও নিয়েছে আইসিসি।
শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে ছিলো পাকিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। আর পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ যদি না হয়, তাহলে আইসিসির ক্ষতি হতে পারে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই লোকসানের কথা ভেবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানকে আহ্বান জানায় আইসিসি।
তবে তাতেও কোনো কাজ হচ্ছিল না। পাকিস্তান তাদের জায়গায় ছিল অনড়। শেষ পর্যন্ত পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে আলোচনায় বসে আইসিসি। সেই আলোচনায় বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ২০২৮ সাল থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি বৈশ্বিক আসর আয়োজনের সুযোগ দিতে হবে—এমন শর্তও দিয়েছিল পাকিস্তান। সেইসঙ্গে বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করা যাবে না। তবে সেই সব শর্তই মেনে নিয়েছে আইসিসি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একটি খোলা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ করেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের বিস্তৃত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আলোচনায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের জাতীয় দলের অনুপস্থিতি বিশ্বকাপে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে না। আইসিসি বারবার উল্লেখ করেছে, বিসিবি মূল্যবান পূর্ণ সদস্য হিসেবে সম্মানিত এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের দুই কোটিরও বেশি ক্রিকেটপ্রেমী ভক্তের জন্য ক্রিকেটের বিকাশ অব্যাহত থাকবে।’
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা বলেছেন, ‘আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। আমাদের লক্ষ্য বিসিবি সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, যাতে দেশে খেলাধুলার টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করা যায় ও খেলোয়াড় এবং ভক্তদের জন্য ভবিষ্যতের সুযোগগুলি আরও শক্তিশালী করা যায়।’