ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ‘রাজনীতিমুক্ত, পেশাদার ও শক্তিশালী’ সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দুই দশক পর ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কী কী করবে, সেই ফর্দ জাতির সামনে তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে সকল বিতর্কের বাইরে রাখতে চায় তার দল।
‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার শুক্রবার ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে কোরাআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়।
তারেক রহমান বলেন, ‘‘প্রতিরক্ষানীতি, অবশ্যই সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা সকল বিতর্ক এবং রাজনীতিকরণের বাইরে রাখতে চাই।
“আমরা যদি সত্যিকারভাবে আমাদের একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে পেশাদারিত্ব বা প্রফেশনালিজমের ওপর জোর দিতে হবে এবং অবশ্যই তাদেরকে সকল রাজনীতিকরণের বাইরে আমাদেরকে রাখতে হবে।”
বিএনপি সবশেষ ২০০১-০৬ মেয়াদে সরকারে ছিল। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির চারদলীয় জোট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের কাছে পরাজিত হয়। তখন থেকেই সরকারের বাইরে বিএনপি।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
প্রায় দেড় বছর পর আগামী ১২ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবে। একইদিন রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে হবে গণভোট।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান; এটাই তার প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা।
সাবেক সেনাপ্রধান এবং পরবর্তীকালে দেশে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে আমরা ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) পলিসিটা চালু করতে চাইছি।”
ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিএনপি বিশ্বাস করে, সুশৃঙ্খল, রাজনীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী সক্ষমতা গড়ে উঠা প্রতিরক্ষা বাহিনীই কেবল দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে। সশস্ত্র বাহিনী যেন উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়টিও দলের ভাবনায় রয়েছে।
বিএনপির ইশতেহারে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী, চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও সার্বঙ্গীন পরিকল্পনার বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও ‘ডকট্রিন’, শক্তিশালী বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী ও সমুদ্র নিরাপত্তা, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে।
সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সামাজিক ও প্রতিরোধমূলক কৌশল, গণতান্ত্রিক সামরিক ও বেসামরিক সম্পর্কের সুদৃঢ় কাঠামো প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কুটনীতিরা উপস্থিত ছিলেন।