গিয়াস উদ্দিন ও জসিম মাহমুদ
টেকনাফে চলতি মৌসুমে পরিত্যক্ত লবণ মাঠে স্বল্পমেয়াদী ধানের ভালো ফলনের আশা পাওয়া যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে এই বছর ২০২ হেক্টর ৪৯৯ একর জমিতে ফলন হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসমে পুরো উপজেলায় ১১০৭০ হেক্টর ২৭৩৪২একর জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে লবণাক্ত জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। হোয়াইক্যং ৫০হেক্টর, হ্নীলা ৯০হেক্টর, টেকনাফ সদর ১৫হেক্টর, সাবরাং ৪৫ হেক্টর ও বাহারছড়া ২ হেক্টরসহ সর্বমোট চাষাবাদ করা হচ্ছে ২০২ হেক্টর ৪৯৯ একর জমিতে। ধানগুলো হলো- ব্রিধান-৩৩,ব্রিধান-৭৫, ব্রিধান- ৪৯,বিনা ৭, বিন্নি ও পাইজাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও বাহারছড়া এলাকায় লবণ মাঠে চাষাবাদ হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। প্রতি বছর বাড়ছে ফলনের ধরনও। এতে করে ধান চাষের প্রবণতা বেড়ে চলেছে।
কৃষকরা জানান, চলতি বছর লবণ মাঠ ব্রিধান-৩৩,ব্রিধান-৭৫, ব্রিধান- ৪৯,বিনা ৭, বিন্নি ও পাইজামের প্রজাতির স্বল্প মেয়াদী ধান চাষে ভাল ফলন হয়েছে। হঠাৎ কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দিলে প্রতি কানিতে প্রায় একশ আরি হতে আরও উপরে ফলন হতে পারে। তাই খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে উপজেলার পরিত্যক্ত লবণ মাঠে ধানের মৌসুমে আমরা সকলের ধান চাষ করা দরকার হয়ে পড়েছে।
লবণ মাঠে ধান চাষ করে ভাল ফলন দেখতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কৃষক মোহাম্মদ জাফর, মোহাম্মদ আনোয়ার, মোহাম্মদ ফায়সাল, নুর হোছন, নুরুল আলম, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।
হারিয়াখালী কৃষক নজির আহমদ বলেন, এক সময়ে লবণের মাঠে শুধু লবণ চাষ ছাড়া ধান চাষ হতো না। এখন লবণের মাঠ শেষ হলে ওই জমিতে ধানও চাষ হচ্ছে। যার কারণে আমরা একই জমিতে দুই ভিন্ন চাষ করতে পারছি। তবে উপজেলা কৃষি অফিসের একটু সহযোগিতা থাকলে আরও ভালো ধান উৎপাদন করতে পারতাম।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, টেকনাফের প্রচুর লবণের মাঠ যা মৌসুম শেষে পরিত্যক্ত বা খালি থাকে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চিহ্নিত করে জমিগুলোকে ধান চাষের আওতায় আনা গেলে যেমন উপকৃত হবে এলাকাবাসী, তেমনি দেশের কৃষিখাতেও যোগান বাড়বে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম কুতুবী বলেন, আমরা কৃষি প্রধান এবং জনবহুল দেশের বাসিন্দা। সারাবছর জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় যে বিপূল পরিমাণ জমি পরিত্যক্ত থাকে সেখানে স্বল্পমেয়াদী প্রজাতির ধান চাষ করতে পারলে আমাদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বিক সহায়তায় কৃষকদের পাশে রয়েছে।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, বৃষ্টি সহনীয় মাত্রায় ছিল। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় ধানের বাম্পার ফলন আশা করা যাচ্ছে।