পেকুয়া থানার ভেতরে মা ও মেয়েকে নির্যাতনের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের এক মাস করে সাজা দেওয়ার অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পেকুয়ার ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব (১৮৬৭৬)কে বান্দরবানের রুমার ইউএনও হিসাবে বদলী করা হয়েছে। অপরদিকে, রুমার ইউএনও মো: এমদাদুল হক শরীফ (১৮৭১৫) কে পেকুয়ার নতুন ইউএনও হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলী আদেশ জারি করা হয়।
রেহেনা মোস্তফা রানু (৪২) এবং তার মেয়ে জুবাইদা বেগম (২১) নামক ২ মহিলা জানিয়েছেন, তাদের একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তাদের পক্ষে দেওয়ার জন্য পেকুয়া থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) পল্লব কুমার ঘোষকে তারা কিছু ঘুষ দিয়েছিলেন। কিন্তু আইও ঘুষ নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন তাদের বিপক্ষে প্রদান করেন। গত ৪ মার্চ পেকুয়া থানায় গিয়ে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় উক্ত মা-মেয়েকে পুলিশ থানাতেই হেনেস্তা করে। পরে পেকুয়ার ইউএনও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম মাহবুব উক্ত মহিলাদ্বয়কে না দেখে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। একইদিন মহিলাদ্বয়ের পক্ষে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো: শাহিদুল আলমের আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাজার বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করলে এডিএম মহিলাদ্বয়কে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। এ ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
পরে কক্সবাজারের জাস্টিস অব দি পিস ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে বিষয়টি জানার পর গত ৮ মার্চ স্ব প্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পেকুয়া থানার ওসি'কে আদালতে তলব করেন।কক্সবাজারের জাস্টিস অব দি পিস নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার বর্হিভূত কার্যক্রমের প্রশ্ন তুলে আদেশে বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে শুধুমাত্র তার সম্মুখে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। পূর্বে গ্রেফতারকৃত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা কোন ব্যক্তিকে মোবাইল কোর্ট এর নিকট উপস্থাপনের কোন সুযোগ আইনে নেই। নির্যাতিতা মা-মেয়ে অভিযোগ করেছেন, ওই দিন তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি পর্যন্ত করা হয়নি।বিষয়টি তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কক্সবাজারের জাস্টিস অব দি পিস ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পেকুয়ার ওসিকে আদালতে তলব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের মাঝেই পেকুয়ার বিতর্কিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুবকে পেকুয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।