কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকাগুলোকে চুরি, ছিনতাই ও অপরাধমুক্ত করতে গতকাল ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এই অভিযানে চারজন ছিনতাইকারী, ছয়জন সুনির্দিষ্ট অপরাধের আসামি, দুইজন মাদকসেবী এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পাঁচজন আসামিসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্র জানায়, পর্যটন শহর ও শহরতলীতে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত চার ছিনতাইকারী হলো- কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার মো. রমজান উদ্দিন (১৪), পিএমখালীর তোতকখালীর মো. আসিফ প্রকাশ আশিক উল্ল্যাহ (২৬), মাইজপাড়ার মো. আরিফ (২৫) এবং ঝিলংজা দক্ষিণ ডিককুলের মো. আরমান (২৬)। এদের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত মো. আরিফের বিরুদ্ধে এর আগে হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও দ্রুত বিচার আইনে কক্সবাজার সদর থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে।
এছাড়া মাদক সেবনের অভিযোগে লিংক রোড এলাকার মো. জামাল (২২) ও টেকপাড়ার রাজু ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, সুনির্দিষ্ট (ধর্তব্য) অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত অপর ছয়জন হলো- বাদশা ঘোনার রবিউল হাসান (২০) ও করিম (২১), রামু দক্ষিণ মিঠাছড়ির মো. শওকত হোসেন (৩২), কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার সুমন চন্দ্র রায় প্রকাশ হাসান (৪৫), পিএমখালীর রহমত উল্লাহ (৩৬) এবং ঝিলংজা দক্ষিণ হাজীরপাড়ার রবিউল হাসান রাতুল (২২)।
পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক ও আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- পৌরসভার বৈদ্যঘোনার মো. শহিদুল ইসলাম প্রকাশ শহিদ, ঝিলংজা জানার ঘোনার এহছানুল হক (৩০), পেতা সওদাগর পাড়ার খোরশেদ আলম, লাইট হাউস ফতের ঘোনার আবু বক্কর ছিদ্দিক এবং পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়ার মোহাম্মদ আনিস (২৩)।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে যথাযথ নিয়মে কক্সবাজারের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পর্যটন শহরকে নিরাপদ রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষায় সদর মডেল থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।