সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে হতদরিদ্রদের জন্য বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করলেও জেলায় ১২ ইউনিয়নের ২০ হাজার হতদরিদ্র এর সুফল পাচ্ছে না। দীর্ঘ এক যুগের ও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ না দেওয়ার কারণে স্বল্পমূল্যের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জেলা প্রশাসন ওই ১২ ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার জন্য দুই মাস আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করায় স্বল্প মূল্যের নিত্যপণ্য কিনতে পারছে না নিম্নবিত্তরা। জেলার ৭১টি ইউনিয়ন মধ্যে চকরিয়া পৌরসভায় দুটি সহ মোট ১৭ টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টিসিবির ডিলার না থাকার কারণে এর সুফল থেকে বঞ্চিত রয়েছে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী ১৭ টি স্পটে ১৭,২৭২ জনকে উপকারভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও তারা দীর্ঘ ১২ বছর যাবত ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবির) মাধ্যমে কোন পণ্য ক্রয় করতে পারেনি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বলছেন ডিলার নিয়োগের জন্য সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা হলেও নানা কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। তিনি অনতিবিলম্বে শূন্য পদে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন বলে জানান।
জেলা প্রশাসকের সাধারণ শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী -জেলার চকরিয়া পৌরসভার দুটি সহ ১২টি ইউনিয়নে ১৭ জন ডিলারের পদ শূন্য রয়েছে। ওই ১৭ জন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে স্বল্পমূল্যে ২০ হাজারের অধিক অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিত্যপণ্য বিশেষ করে চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, ছোলা এবং চাল ক্রয় করতে পারবেন।
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের দুইটি পদ শূন্য রয়েছে। সরকারি হিসেবে উপকারভোগির সংখ্যা হল ২৩৪৮ জন।
চকরিয়া পৌরসভায় ডিলারের পদ খালি ২ জন। উপকারভোগির সংখ্যা ২৭২৯ জন। চকরিয়ার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ১জন। ডুহাজারা ইউনিয়নে দুইজন। উপকারভোগীর সংখ্যা রয়েছে ১৫৮৮ জন। উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের দুইটি ডিলারের পথদ শূন্য রয়েছে। এখানে উপকারভোগী ধরা হয়েছে ১৭৭৮৬ জন। মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে ডিলারের পদ শুন্য রয়েছে একজন। এখানে উপকারভোগি ধরা হয়েছে ১৪৬৪ জন। পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নে ডিলারের পদ শূন্য রয়েছে একজন। উপকারভোগী ধরা হয়েছে ৯৮৭ জন। একই উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নে ডিলারের পদ শূন্য রয়েছে একজন। উপকারভোগি ধরা হয়েছে ৬৯৩ জন। কুতুবদিয়া উপজেলায় কৈয়ারবিল ও আলী আকবর ডেইলে দুটি ইউনিয়নে দুইজন ডিলারের পদশূন্য রয়েছে। ওই দুইটি ইউনিয়নে উপকারভোগি ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৬৭৮ ও ১০৫৬ জন। এছাড়া টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ডিলারের পদ শূন্য রয়েছে দুইটি। উপকারভোগি ধরা হয়েছে ২৭২৮ জন। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের ইউনিয়ন সেন্টমার্টিনে ডিলারের পদ শূন্য রয়েছে একটি। উপকারভোগি রয়েছে ৬৮৭ জন। জেলায় মোট ১৭ জন টিসিবির ডিলারের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে ওই এলাকাগুলোতে বিশ হাজার মানুষ টিসিবির পণ্য কেনা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
কক্সবাজারে শূন্য পদে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ শহিদুল আলম বলেন -জেলার চকরিয়া পৌরসভা এবং ১২টি ইউনিয়নে ১৭ জন নিয়োগ করা হবে। ১৭টি পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য থাকার কারণে আমরা গত মাসে বিধি অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। ফলে ১৭ টি পদের জন্য শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পত্র আসলে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব। সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প মূল্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্য বিক্রয় করে আসছে যা সাধারণ মানুষের উপকার বিশেষ করে যখন মানুষের কোন কাজ থাকে না তখন ট্রাকসেলের মাধ্যমেও এ কর্মসূচি বিস্তৃত করা হয়েছে। আশা করি শীঘ্রই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচি বঞ্চিত এলাকায় চালু করতে পারব।