কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ফাঁকা গুলিবর্ষণের পর মাদকপাচারকারীরা পালালেও তাদের ফেলে যাওয়া ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বিজিবি।
শুক্রবার (০৫ জুন) সকালে এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, টেকনাফের উনচিপ্রাং সীমান্ত এলাকায় দিনগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ইছাকের ঘেরে সন্দেহভাজন তিন চোরাকারবারিকে থার্মাল ডিভাইসের মাধ্যমে শনাক্ত করে বিজিবি টহল দল। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মিয়ানমারের দিকে পালানোর চেষ্টা করলে নন-লেথাল অস্ত্র থেকে ২ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এসময় তারা তিনটি পলিথিনের পোটলা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেগুলো তল্লাশি করে ২ লাখ ১২ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৩ হাজার ৬০০ টাকা। ঘটনার পর পলায়নরত চোরাকারবারিদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান চালানো হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, আরেকটি অভিযানে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত থেকে ৩ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বিজিবি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুইজারখাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি।
বিজিবি জানায়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় দুই সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় নন-লেথাল অস্ত্র থেকে এক রাউন্ড গুলি ছোড়া হলে চোরাকারবারিরা দুটি ব্যাগ ফেলে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে ৩ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা। তবে ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে, আরেকটি অভিযানে কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত থেকে ৬০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে আটক করেছে বিজিবি। বৃহস্পতিবার রাতে বালুখালী বিওপির বিশেষ টহল দল মাষ্টারের ঘের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
আটক ব্যক্তি মো. আমিন (২০), উখিয়ার বালুখালী এলাকার বাসিন্দা। তল্লাশির সময় তার বহন করা কাপড়ের পোটলা থেকে ৬০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমিন স্বীকার করেন, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি বহন করছিলেন।
৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পালিয়ে যাওয়া মাদক চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।