এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফলে জেলায় এসএসসিতে পাসের হার নেমেছে ৫৭.০৯ শতাংশে। জিপিএ৫ পেয়েছে ৮৯৯ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক পিছিয়ে পড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবারের ফলাফলে চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছে। পিছিয়ে পড়েছে নামিদামি স্কুলগুলো।
বরাবরের মতো প্রথমে থাকা কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো প্রথম স্থান অর্জন করেছে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী। জেলার পাঁচটি শীর্ষ ফলাফলকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমনটাই পাওয়া গেছে। বায়তুশ শরফ জববারিয়া একাডেমী থেকে ৫৬৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯৫ জন পাশ করে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭ জন। পাশের হার ৮৭.৭৭ শতাংশ। প্রথম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে চলে গেছে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৭৭ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৩ জন। পাশের হার ৮৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে কক্সবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ২৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৩৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১ জন। পাশের হার ৮২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে জেলার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ২৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৮৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন। পাশের হার ৭৮.৯৭ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে চকোরিয়ার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যালয় থেকে ৪০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩১১ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৯ জন। পাশের হার ৭৭.৫৬ শতাংশ। এছাড়াও শহরের কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল চমৎকার ফলাফল অর্জন করেছে। ফলাফল চমৎকার বিয়াম বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল। রামুর শহীদ লেফটেন্যান্ট তানজিম হাসান স্কুল এন্ড কলেজ।
জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখা সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় সর্বমোট পরিক্ষার্থী ছিল ১৮ হাজার ২২৩ জন। তারমধ্যে ১৮ হাজার ১২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। পাশের হার ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে-৮৯৯ জন। ১০ আগষ্ট প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় জেলায় পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে মারাত্বক বিপর্যয় ঘটেছে।
জেলায় এবার পাসের হার নেমে এসেছে ৫৭ দশমিক ৯ শতাংশে যা গত বছর যেখানে পাসের হার ছিল ৭০.৭৬% সেখানে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এদিকে গত বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তি ছিল যেখানে ১,১৯০ জন, সেখানে এবছর পেয়েছে মাত্র ৮৯৯ জন। ২০২৪ সালে পেয়েছে-১৩০১ জন। ২০২৩ সালে ছিল ১,৪০৬ জন এবং ২০২২ সালে ছিল ২৪৫১ জন)।এবছর পাসের হার কমেছে ১২.৮৮ % এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তি কমেছে ১১১ জন।
এবারের ফলাফলে দেখা যায়, এবছর জেলায় ১০ হাজার ৭৪২ জন মেয়ে পরিক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণ করে ১০ হাজার ৬৭৪ জন। আর পাশ করেছেন ৬ হাজার ১০৪ জন। পাশের হার ৫৭.১৯% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১১জন।
অপরদিকে ৭ হাজার ৪৮১ জন ছেলে পরিক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণ করে ৭ হাজার ৪৫৪ জন। আর উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ হাজার ২৪৫ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার ৫৬.৯৫% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮৮জন। তবে বরাবরের মতো এবছরও তিন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ফলাফল হয়েছে বিজ্ঞান বিভাগে। এ বিভাগে পাশের হারে ছেলের সামান্য এগোলেও ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এবার মেয়েরা বেশ এগিয়ে গেছে। জেলায় এবছর মোট ৮৯৯ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তির মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগেই পেয়েছে ৮৩২ জন। তবে এবছর সবচেয়ে খারাপ রেজাল্ট করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ২০২৫ সালে মানবিক বিভাগে যেখানে পাশের হার ছিলো ৫৭.৮২% সেখানে এবছর পাশের হার মাত্র ৪১.৫৮%। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২জন। এ বিভাগ থেকে ৪৯৪৫ জনই অকৃতকার্য হয়েছে।
প্রতিবারের মতো এবারও পাশের হার সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞান বিভাগে। এ বছর বিজ্ঞানে মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ৫০০৯ জন এবং অংশগ্রহন করে ৪ হাজার ৯৯৩ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ৪ হাজার ১৮৩ জন। পাশের হার ৮৩.৭৮%। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩২জন। গত বছর পাশের হার ছিল ৯২.৭৪%। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১,১০৭ জন। এবছর বিজ্ঞানে মোট ছেলে পরীক্ষার্থী ছিলো ২১৯৯ জন এবং অংশগ্রহন করে ২১৯৪ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ১৮৪৯ জন। পাশের হার ৮৪.২৮%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭২ জন। এবছর এ বিভাগে মোট মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিলো ২৮১০ জন এবং অংশগ্রহন করে ২৭৯৯ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ২৩৩৪ জন। পাশের হার ৮৩.৩৯%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬০ জন।
এছাড়া এবছর বাণিজ্য বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ৪৬৮৮ জন এবং অংশগ্রহন করে ৪৬৭১ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ২৬৪৭ জন। পাশের হার ৫৬.৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। বাণিজ্যে মোট ছেলে পরীক্ষার্থী ছিলো ২৪৯৩ জন এবং অংশগ্রহন করে ২৪৮৭ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ১৩২৮ জন। পাশের হার ৫৩.৪০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন। এ বিভাগে মোট মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিলো ২১৯৫ জন এবং অংশগ্রহন করে ২১৮৪ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ১৩১৯ জন। পাশের হার ৬০.৩৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন।
এবছর মানবিক বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ৮৫২৬ জন এবং অংশগ্রহন করে ৮৪৬৪ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ৩৫১৯ জন। পাশের হার ৪১.৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন। মানবিকে মোট ছেলে পরীক্ষার্থী ছিলো ২৭৮৯ জন এবং অংশগ্রহন করে ২৭৭৩ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ১০৬৮ জন।পাশের হার ৩৮.৫১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২ জন।এ বিভাগে মোট মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিলো ৫৭৩৭ জন এবং অংশগ্রহন করে ৫৬৯১ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ২৪৫১ জন। পাশের হার ৪৩.০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন।
কক্সবাজার জেলার সামগ্রিক ফলাফল বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ আ: মান্নান বলেন, দেশের সামগ্রিক ফলাফল যেমন হয়েছে তেমনি কক্সবাজার জেলার ফলাফল বিশ্লেষণেও তেমন দেখা গেছে। তবে সামগ্রিক ফলাফল আরো ভালো করা দরকার। পরীক্ষার পূর্বে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আমরা পড়ালেখার মান কিভাবে উন্নত করা যায়, ফলাফল কিভাবে চমৎকার করা যায় সেই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলাম। নির্দেশনা অনুযায়ী অনেক প্রতিষ্ঠান বাস্তব ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করেনি। ফলে সামগ্রিক ফলাফল খুব ভালো হয়েছে এমনটা বলা যাবে না। আগামীতে কিভাবে সামগ্রিক ফলাফল আরো উন্নত করা যায়, পাশের হার বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে উপজেলা ভিত্তিক কমিটি গঠন করে কাজ করতে হবে। কক্সবাজারের শিক্ষার মান ও ফলাফলের সামগ্রিক উন্নয়নে শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ একযোগে কাজ করলে শিক্ষার ফলাফল আরো উন্নত করা যাবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা। তিনি কক্সবাজার জেলার শিক্ষার উন্নয়নে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস এবং সহযোগিতা কামনা করেন।