কক্সবাজারে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে চাঁদ দেখতে পেয়েছেন জেলা চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রোজা শুরু।
কক্সবাজার জেলা চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য সদস্য সচিব কৃষিবিদ ড. মুহাম্মদ আবু তালহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে চাঁদ দেখতে সক্ষম হই। শুরুতে আকাশে হালকা লাল আভা থাকার কারণে চাঁদটি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তার ক্যামেরার মাধ্যমে প্রথম চাঁদটি সনাক্ত করতে সক্ষম হন। এরপর আমরা সেটিকে কেন্দ্র করে আরও মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করি এবং নিশ্চিতভাবে চাঁদ দেখতে পাই। সেই হিসেবে, ইনশাআল্লাহ বুধবার থেকে আমরা তারাবির নামাজ আদায় করবো।
এদিকে জেলা চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি সোলাইমান কাসেমী বলেন, রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তারাবির নামাজ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। এই মাস মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য শান্তি, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং ভালো কাজের বার্তা নিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র রমজান মাসের চাঁদের জন্য আমরা দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহর নেক ও দ্বীনদার বান্দারা রোজা রাখা ও তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করে থাকেন। আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য আমরা মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
মুফতি সুলেমান কাসেমী বলেন, বুধবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তারাবির নামাজের জামাত শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করে তারাবির নামাজ আদায় করবো।
“রমজান মাস সম্পর্কে হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- তোমাদের উপর এমন একটি বরকতময় মাস আগমন করছে, যে মাসে সময়ের মধ্যে বরকত, রিজিকের মধ্যে বরকত এবং জীবনের মধ্যে বরকত রয়েছে। এ মাসে রোজা ফরজ করা হয়েছে এবং রাতের তারাবির নামাজ সুন্নত হিসেবে উম্মতে মুহাম্মদী (সা.)-কে দান করা হয়েছে- যা এক মহা নেয়ামত।
মুফতি সুলেমান কাসেমী আরও বলেন, হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা রাখবে এবং তারাবির নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। সেই হিসেবে আমরা আজ থেকে রমজানের আমল শুরু করবো এবং তারাবির নামাজ আদায় করবো। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের যথাযথ হক আদায় করার এবং বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
এর আগে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখার জন্য বিকেল ৪টা থেকেই সৈকতের লাবনী পয়েন্টে অবস্থান নেন জেলা চাঁদ দেখা কমিটির ৭ সদস্য।
এদিকে চাঁদ দেখার খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। মসজিদে মসজিদে দোয়া এবং বাসাবাড়িতে সাহ্রি ও ইফতারের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানাতে আনন্দে ভাসছে।