আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে প্রথম বছরেই কক্সবাজার–মহেশখালী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এই উন্নয়নের অংশীদার হতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মহেশখালীতে কক্সবাজার-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এ সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বড় মহেশখালী নতুন বাজার মাঠে মহেশখালী উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনে জনগণ যদি বিএনপিকে ক্ষমতায় বসায়, তাহলে জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে মহেশখালী–কক্সবাজার সেতু নির্মাণ করা হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রথম বছরেই শুরু হবে নির্মাণ কার্যক্রম। কারণ, জনগণের এই দাবি আমারও দাবি। আমরা সেটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে রূপ দেব। তবে আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। এটির জন্য সময়ের প্রয়োজন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে মহেশখালীর নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ জনসভা শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টার কিছু সময় পর সালাহউদ্দিন আহমদ জনসভা অঙ্গনে পৌঁছেন।
মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, মহেশখালীতে সমুদ্রবন্দরসহ অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে যোগাযোগের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। আর এই উন্নয়নকে ঘিরে শহর–উপশহর, শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। যেখানে সুযোগ-সুবিধায় মহেশখালীর বাসিন্দারাই অগ্রাধিকার পাবে।
তিনি বলেন, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য সর্বপ্রথম বিএনপিই ঘোষণা দিয়েছিল। এরই প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে সেটির বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে ইতিমধ্যে মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে। এই সমুদ্রবন্দরকে আমরা আরও সম্প্রসারিত করে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ বন্দরে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নিয়েছি।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা লবণচাষীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায়। অতীত ইতিহাস তাই বলে। ইতিমধ্যে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চাষিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আলোচনা করেছি। আগামীতে লবণচাষিরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, বিএনপি সেই ব্যবস্থাই করবে। একই সঙ্গে চিংড়ি চাষিরাও যাতে ভালো দাম পায়, তার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মানুষের বেড়িবাঁধের দুঃখ আর থাকবে না।
এর আগে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া জনসভায় সন্ধ্যা নামতেই বিপুল জনসমাগম ঘটে। দুপুর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে মিছিল সহকারে নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগ দেন। জনসভাস্থল ছাড়িয়ে মানুষ আশপাশের বিভিন্ন ছাদে ও অলিগলিতে অবস্থান নেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বলেন, আজ একটি দল ইসলামের নাম দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। জনগণকে এসব থেকে সাবধান থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের দল। শহীদ প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল। কিন্তু যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতা যুদ্ধে মা-বোনদের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধে গল্প বলছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে অপ-প্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ আজ বুঝে গিয়েছি- দলটি মুনাফিকে ভরা। এদেশের মানুষ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রতিহত করবে।
মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক রহমান জুয়েল এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহসভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিক, যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল কাদের বাবুল, মাস্টার আব্দুল মান্নান, আব্দুল মোতালেব, আতাউল্লাহ বোখারী, রফিকুল ইসলাম, এনামুল করিম, কুতুবদিয়ার বিএনপি নেতা জালাল আহমদ, জেলা যুবদল নেতা সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল, জিসান উদ্দিন জিসানসহ জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
সভায় ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ সবার কাছে শেষবারের মতো বিনয়ের সাথে ভোট প্রার্থনা করেন।