মায়ের জাতিকে সম্মান ও মর্যাদা দিতে এই সমাজ ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা ইনশাআল্লাহ মায়েদের ঘরে, চলাচলে ও কর্মস্থলে-এই তিন জায়গায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করবো।”
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার নতুনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ হামাগুড়ি দিয়ে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সামনে এগোবে—এটা আমরা চাই না। বাংলাদেশকে এখন জাম্প করতে হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা বিশ্বাস করি, এটা সম্ভব। কাজ করবে যুবকরা, কাজ করবে যুবতীরা; কাজ করবে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান-এখানে দল ও ধর্ম নয়, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমই হবে একমাত্র মাপকাঠি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। এই টাকা জনগণের। চোর-ডাকাতরা জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাঠিয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ এই টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে।”
ইনসাফের ভিত্তিতে উন্নয়নের অঙ্গীকার করে জামায়াত আমীর বলেন, “আর কোনো বেইনসাফি বাংলাদেশে চলবে না। একটি বাড়িতে উন্নয়নের জোয়ার আর চারদিকে মরুভূমি-এই চিত্র আর থাকবে না। যে এলাকা যত বেশি বঞ্চিত ও পিছিয়ে, তাকে সবার আগে টেনে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।”
মহেশখালীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা এই এলাকাকে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর করেছেন। অথচ এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মহেশখালী আজ পিছিয়ে পড়েছে। আমি আপনাদের কাছে অঙ্গীকার করছি, ইনশাআল্লাহ মহেশখালীকে একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোনে পরিণত করা হবে। এতে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বেকার ভাতার চিন্তা করতে হবে না।”
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এই সমাজ ব্যর্থ হয়ে মায়েদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আমরা ইনশাআল্লাহ সেই ব্যর্থতা দূর করবো। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের হৃদয় জয় করে স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
তিনি বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না; আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সেটাই হবে প্রকৃত বিজয়।”
কক্সবাজারের লবণ শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আজ লবণ মাঠে একজন চাষীকেও দেখিনি। আপনারা কাজ ফেলে এখানে এসেছেন-এটা ত্যাগের পরিচয়। ইনশাআল্লাহ আমরা এই ত্যাগের মূল্যায়ন করবো। লবণ শিল্পকে আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে কাজ সহজ হয় ও উৎপাদন বাড়ে।”
জনসভা শেষে তিনি বলেন, “১২ তারিখের পর ১৩ তারিখ হবে নতুন বাংলাদেশের সূচনা। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ বদলে যাবে।”