চট্টগ্রামের নির্বাচনি মহাসমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলের কেউ সন্ত্রাসে জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনও মূল্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন ও রাজনৈতিক অধিকার চায়। শুধু সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনও উপকার হবে না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল রাজনীতি ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি যতবার ক্ষমতায় ছিল, ততবারই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে। শুধু সমালোচনা করার স্বার্থে সমালোচনা করলে দেশের মানুষের পেট ভরবে না। বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা সরকারে থাকাকালে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
‘১৭ বছর পর যেদিন আমি দেশের মাটিতে পা রেখেছিলাম, সেদিনই সমগ্র জাতির সামনে ঘোষণা করেছি– দেশ ও দেশের মানুষকে ঘিরে বিএনপির একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী তরুণ ও যুবক। কোটি কোটি তরুণ-যুবক কাজ চায়।’
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানকার মানুষসহ সারা দেশের জনগণ একটি নিরাপদ পরিবেশ চায়, যেখানে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবে। একই সঙ্গে তারা চায় তাদের সন্তানরা নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া করুক।’
শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের রায়ে আগামী ১২ তারিখ বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে প্রাথমিক শিক্ষাসহ সব স্তরে পরিবর্তন আনা হবে। এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে তরুণ সমাজ শুধু সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।’
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি বড় বড় হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। গ্রামাঞ্চলের মানুষ, নারী ও শিশুদের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য বিএনপি ক্ষমতায় এলে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি ছিল চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা। বিএনপি সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সময়ের অভাবে তা সম্পূর্ণ করা যায়নি। গত ১৫ বছরে এই উদ্যোগ নিয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইনশাআল্লাহ, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে বেগম খালেদা জিয়ার নেওয়া বাণিজ্যিক রাজধানীর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’
চট্টগ্রামসহ সারা দেশের জলাবদ্ধতার সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হবে। প্রয়োজনে দুহাতে কোদাল দিয়ে খাল খনন শুরু করা হবে, যাতে জলাবদ্ধতার বড় সমস্যা দূর করা যায়।
‘চট্টগ্রামে অবস্থিত ইপিজেডগুলো বিএনপির শাসনামলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আরও নতুন ইপিজেড গড়ে তোলা হবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বিএনপির নির্বাচনি স্লোগান ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গণতন্ত্রের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ ওয়াসিমসহ জুলাই শহীদ এবং সব শহীদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশের মঞ্চ থেকে তারেক রহমান বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা সমাবেশে বক্তব্য দেন।