বিজ্ঞানীরা আগে যা ধারণা করেছিলেন তার চেয়ে বেশি গ্রহে এলিয়েনদের আবাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজছেন কেবল সেইসব গ্রহে যেগুলো ‘বসবাসযোগ্য’ জোনের মধ্যে পড়ে। এসব গ্রহে আবহাওয়া খুব বেশি গরমও নয় আবার খুব বেশি ঠান্ডাও নয়, বরং তরল পানি থাকার মতো সহনশীল। এ ধরনের গ্রহই তাদের অনুসন্ধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু। কারণ তাদের অনুমান, একটি গ্রহে প্রাণ থাকার জন্য তরল পানি থাকা অপরিহার্য।
অন্যান্য সৌরজগতে এ পর্যন্ত এমন অনেক গ্রহের খোঁজ মিলেছে, যেগুলো এ ‘বসবাসযোগ্য’ শর্তের মধ্যে পড়ে না। ফলে গবেষকরা এতদিন ভেবেছিলেন, তাদের খুঁজে পাওয়া বিভিন্ন গ্রহের বড় অংশই হয়ত ভিনগ্রহী প্রাণীদের বসবাসের উপযোগী নয়।
তবে এখন নতুন গবেষণা বলছে, বিজ্ঞানীদের আগের ওইসব শর্ত সম্ভবত অনেক কঠোর ছিল। নতুন গবেষণার তথ্য অনুসারে, এমন অনেক গ্রহ থাকতে পারে, যেখানে তরল পানি থাকা সম্ভব। তবে এতদিন সেগুলোকে গুরুত্বই দেওয়া হয়নি।
যেসব গ্রহ এদের তারার সঙ্গে ‘টাইডালি লকড’ অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ গ্রহটির একটি দিক সবসময় এর তারার দিকে মুখ করে থাকে (যেখানে এক পাশে সবসময় দিন) ও অন্য দিকটি সবসময় অন্ধকারের দিকে থাকে (যেখানে সবসময় রাত) সেখানেও প্রাণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে।
নতুন গবেষণা অনুসারে, ওইসব গ্রহের দিনের অংশের তাপ পুরো গ্রহে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা তরল পানি থাকার জন্য যথেষ্ট।
এ ধরনের গ্রহের জলবায়ু কীভাবে কাজ করে তা মডেল ব্যবহার করে খতিয়ে দেখেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, দিনের অংশ থেকে আসা তাপ রাতের অংশটিকে জমাট বাঁধতে দেয় না, এখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ওপরে থাকে। ফলে, মহাকাশে আগের ধারণার চেয়ে বেশি সংখ্যায় বসবাসের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে।
নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সম্প্রতি যেসব গ্রহ খুঁজে পেয়েছে যেগুলোতে জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য গ্যাস থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে এসব গ্রহে তরল পানি থাকার মতো পরিবেশ থাকতেও পারে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, যেসব গ্রহকে আগে ‘অত্যধিক দূরে’ বা প্রাণের জন্য ‘অযোগ্য’ বলে মনে হত সেগুলোও আসলে বসবাসের উপযোগী হতে পারে। এসব গ্রহে পুরু বরফের স্তরের নিচে তরল পানি জমা থাকতে পারে। ফলে গবেষকদের অনুমানের চেয়েও অনেক গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ।