টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি পাঁচটি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার আঠারো ঘরপাড়া এলাকার সীমান্তসংলগ্ন ধানখেতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের নাইখংখালী এলাকার সলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আবছার উদ্দীন (১৯) এবং মৌলভী বাজার এলাকার ছলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আদিল (২৬)।
এসআরবি-১৫ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ সিপিসি-১ ক্যাম্পের সদস্যরা জানতে পারেন, একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্র হ্নীলা সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ সিপিসি-১ ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহভাজন ৯ থেকে ১০ জনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযানকারী দলের সদস্যরা দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে অন্যরা পালিয়ে যায় বলে অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে সর্বমোট ১১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা পাঁচটি দেশীয় তৈরি বড় রামদা জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) কক্সবাজার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও পরিচালক (ল' অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সীমান্তবর্তী টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে পাচারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে প্রায়ই মাদকের বড় চালান উদ্ধার হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার পাশাপাশি পাঁচটি বড় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সীমান্তে সক্রিয় মাদক কারবারি চক্রের তৎপরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে।
এদিকে উদ্ধার করা ইয়াবা, জব্দ করা রামদা ও আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।