কক্সবাজারের রামুর প্রত্যন্ত গ্রামে সন্ধান মিলেছে বোমা সদৃশ্য বস্তু। রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা লুতু মিয়া গুরাইয়ার বসত বাড়িতে, বোমা সদৃশ্য দাতব বস্তুটি পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে বৃহষ্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি বিকালে রামু থানা পুলিশের একটি দল বস্তুটি চারপাশে চিহ্ন দিয়ে ঘিরে রাখে।
বৃহষ্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি দুপুরে রামুর ইতিহাস গবেষক আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বোমা সদৃশ্য বস্তুটির দুটি ছবি শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উক্ত বস্তুটিকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা বলে দাবী করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি শেয়ার করে লেখেন- “২য় বিশ্বযুদ্ধের বোমা! এই বোমাটার উপর নাকি অনেকদিন যাবত মানুষ কাপড়কাচার কাজ করত! এটাতে এক্সপ্লোসিভ আছে কিনা পরীক্ষা করা দরকার। না থাকলে সংরক্ষণ করা উচিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে। এটাও তো রামুর ইতিহাসের অংশ।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত বোমা সদৃশ্য বস্তুটি উক্ত এলাকার পাহাড়ের উপর দীর্ঘদিন যাবৎ রয়েছে। স্থানীয় বয়স্ক বাসিন্দারা জানান তারা ছোটবেলা হতে উক্ত বস্তুটি পাহাড়ের উপর দেখছেন। সম্প্রতি ওই এলাকার নুর আহমদের ছেলে লুতু মিয়া বস্তুটি পাহাড় হতে নামিয়ে পাহাড় সংলগ্ন তার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন- পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো এবং সেটি প্রাথমিকভাবে সেখানে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী সেটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ইতিহাস গবেষক আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া দৈনিক কক্সবাজারকে জানিয়েছেন- বোমা সদৃশ্য বস্তুটির বিষয় তিনি অনেক আগেই জেনেছিলেন। নিজের আগ্রহ থেকে বৃহষ্পতিবার তিনি এবং শিক্ষক সুমথ বড়ুয়াসহ সেটি দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর ধারনা হয়তো এটি জাপানের তৈরী এবং বর্তমানে এটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের মতো তিনিও এটি দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা বলে ধারনা করেছেন। বস্তুটির আকার প্রস্ত গাসের সিলিন্ডারের মতো এবং দৈর্ঘ্য আরও বেশী।
এদিকে বোমা সদৃশ্য বস্তুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে, সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।