দ্রুত সময়ের মধ্যে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় হওয়ায় ‘জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়েছে’ বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতা, তদন্ত বিচারকার্য সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি ‘মাইলফলক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এভাবেই আমরা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।"
টেলিভিশনে খবরে স্ক্রিনে রামিসা হত্যার রায়ের খবর শোনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের দেশে এটা খুব চাঞ্চল্যকর একটা মামলা ছিল। আমি আজকে পুলিশ বাহিনীকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা করছি। বেশ আলোড়ন হয়েছে এই ঘটনা। জনপ্রত্যাশ্যা অনুযায়ী অত্যান্ত কম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার, চার্জশাট দিয়ে, ডিএনএ টেস্ট করে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করেছি আমরা।"
ঈদের ছুটির মধ্যে ছুটি বাতিল করে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে যা রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক দায়বদ্ধ থেকে করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে রায়ে।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
ন্যায় বিচারের স্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকে আসামি পক্ষের আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, "আসামি দুইজন। খুব কঠিন কিছু ছিল না প্রমাণ করার। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত ন্যায় বিচার করেছে।"
পরবর্তী কার্যক্রম হাই কোর্টের জানিয়ে তিনি বলেন, "এই ঘটনাটি আমরা হাই কোর্টের নজরে আনব যেন ডেথ রেফারেন্সের শুনানি এগিয়ে আনা যায়।"
গোয়ালন্দঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার নিয়ে তিনি বলেন, "পুলিশ এখানে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। অন্তত ৫০ ব্যাক্তির প্রাণ বেঁচেছে। গজারিয়াতে একটি কিশোরী ধর্ষণের পরে হত্যার কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না সেটা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা পুলিশকে ভাল কাজের জন্য পুরস্কৃত করবো।"
বর্তমানে সীমান্তে পুশইন ঠেকানোসহ সীমান্তে বিএসএফ বিজিবির মধ্যে উত্তেজনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "সীমান্ত নিয়ে মহাপরিচালক পর্যায়ের মিটিং একবার বাংলাদেশে হয় একবার ভারতে হয়। এবার ভারতে হচ্ছে। ওখানে সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সিদ্ধান্তগুলো সংক্ষিপ্তসার করে স্বাক্ষরের বিষয় রয়েছে। আলোচনা হোক আগে দেখি।
“আমাদের বর্ডার গার্ড সতর্ক আছে অবৈধ পুশইনের চেষ্টাকে আমরা বাধা দেব।”
তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে মাধ্যমে এসব আলোচনা করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বর্তমানে মাদকসহ কিছু আইন সংস্কারের কাজ চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এগুলো সংস্কার হলে অপরাধীরা পার পাওয়ার সুযোগ হারাবে।