কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে দিনদুপরে বাস থামিয়ে ডাকাতি, বিকাশের ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনার মুলপরিকল্পনাকারি একজন নারী। যে নারী বিকাশের টেকনাফের এজেন্সের সেলসম্যানদের গতিবিধি অনুসরণ করেছেন কয়েকদিন। ঘটনার দিন ২ আগস্ট যে ব্যাংক থেকে বিকাশের সেলসম্যানরা টাকা উত্তোলন করেছিলেন ওই ব্যাংকের ভেতরেই ছিলেন এই নারী। শুধু তা নয়; একই নারীটি সেলসম্যানদের অনুসরণ করে একটি অটোরিকশা করে পিছু নিয়ে ছিল যাত্রীবাহি বাসটির। যার সকল তথ্য মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন পাহাড়ে অবস্থানরত ডাকাত দলের সাথে থাকা আপন ভাইকে। মুলত এই নারীর নেতৃত্বে টেকনাফের লেদা এলাকায় রয়েছে একটি সশস্ত্র ডাকাত দল। নিজের ভাইকে প্রধান করে রোহিঙ্গা যুবকদের নিয়ে গঠিত এই দলটি একাধিক অপহরণের সাথে জড়িত রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫ জনের মধ্যে আদালতে ২ জনের স্বীকারোক্তিমুলক ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য, লেদা এলাকার একাধিক বাসিন্দা, ডাকাতিতে শিকার বিকাশের সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপকালে ওই নারীর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
ঘটনার সূত্র ধরে যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে ওই নারীর ভাইও। ইতিমধ্যে পুলিশ লুটের ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করেছে।
পুলিশ বলছে, পুরো ডাকাতিতে জড়িত চক্রের সকলেই ইতিমধ্যে শনাক্ত হয়েছে। ওই নারীকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক সদস্য জানিয়েছেন, লুটের একটি বিশাল অংকের টাকা ব্যবহার হয়েছে ওই নারীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে সুদে টাকা দেয়ার ক্ষেত্রে। লুটের টাকা ভাগ করার আগেই একটি স্বর্ণের দোকানে সুদের সহ আসল টাকা নিয়ে স্বর্ণ ফেরত নেয়া হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যা কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানিয়েছেন, ২ আগস্ট টেকনাফের বাস ডাকাতির পর টাকা লুটের মামলায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। যার মধ্যে আয়াজ নামের এক রোহিঙ্গা এবং লেদার হোসেন আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
রবিবার বিকালে এই ২ আসামি টেকনাফের ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক নাজমুল হাসানকে স্বীকারোক্তিমুলক এই জবানবন্দি প্রদান করেন।
এ পর্যন্ত গ্রেপ্তারের মধ্যে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানকারি দুই জন ছাড়া অপর আরও ২ জনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন, লেদা এলাকার আকতার হোসেন ও নজরুল ইসলাম।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার অপরজন নারী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এই নারী সেই পরিকল্পনাকারি নারীটি কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট ২ জন এবং ৮ আগস্ট শনিবার রাতে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন। সর্বশেষ শনিবার রাতে ৩ জন গ্রেপ্তার এবং টাকা লুটের ঘটনা নিয়ে রবিবার সন্ধ্যার পর টেকনাফ থানায় সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও রাত ৮ টা পর্যন্ত ওই সংবাদ সম্মেলন করেননি পুলিশ।
২ আগস্ট টেকনাফ স্থলবন্দরের উত্তরের ১৪ নম্বর ব্রীজ এলাকায় যাত্রীবাহি একটি বাস থামিয়ে এই ডাকাতি সংঘটিত হয়। যেখানে বাসটিতে থাকা বিকাশের সেলসম্যানের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। এসময় ডাকাতের গুলি এবং মারধরে ৩ জন আহত হন।